ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়া থানায় ‘নির্যাতন’: সাবেক দুই এসআইসহ ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে জবানবন্দি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও অসদাচরণের অভিযোগে করা মামলায় বাদী মোহাম্মদ পারভেজের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত।

আজ রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। আদেশ হাতে পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এর আগে সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। গত ১১ জুন আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। পরে মামলার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ, এসআই ফজলুল হক এবং থানার অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য।

যেভাবে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাতকানিয়া উপজেলার এওছিয়া গ্রামের মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ স্বল্প বেতনে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। ২০২০ সালের ২৬ মে দুপুরে কোনো পরোয়ানা বা অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ মে পর্যন্ত তাঁকে থানায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয়। বাঁ কানে আঘাতের কারণে শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন পারভেজ। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও নিয়ে রাখা হয় বলে মামলার বর্ণনায় বলা হয়েছে।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি দুই মাস তিন দিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আইজিপির কাছে অভিযোগ, তদন্ত থেমে যাওয়ার দাবি

মামলার নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পারভেজ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দুজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে ওই অভিযোগের তদন্ত আর এগোয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপের অভিযোগ
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল এসআই সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলুল হকের নির্দেশে সাদা পোশাকে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য পারভেজের বাড়িতে যান।

তাঁরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী পারভেজের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের কারণে তিনি আগে আদালতে মামলা করতে সাহস পাননি। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়া থানায় ‘নির্যাতন’: সাবেক দুই এসআইসহ ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে জবানবন্দি

সাতকানিয়া থানায় ‘নির্যাতন’: সাবেক দুই এসআইসহ ৮ পুলিশের বিরুদ্ধে জবানবন্দি

প্রকাশিত: ০৯:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও অসদাচরণের অভিযোগে করা মামলায় বাদী মোহাম্মদ পারভেজের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত।

আজ রোববার চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। আদেশ হাতে পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এর আগে সাতকানিয়া থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। গত ১১ জুন আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন। পরে মামলার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সাতকানিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ, এসআই ফজলুল হক এবং থানার অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য।

যেভাবে হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাতকানিয়া উপজেলার এওছিয়া গ্রামের মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ পারভেজ স্বল্প বেতনে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। ২০২০ সালের ২৬ মে দুপুরে কোনো পরোয়ানা বা অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ মে পর্যন্ত তাঁকে থানায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয়। বাঁ কানে আঘাতের কারণে শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন পারভেজ। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও নিয়ে রাখা হয় বলে মামলার বর্ণনায় বলা হয়েছে।

শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি দুই মাস তিন দিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আইজিপির কাছে অভিযোগ, তদন্ত থেমে যাওয়ার দাবি

মামলার নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পারভেজ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দুজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে ওই অভিযোগের তদন্ত আর এগোয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপের অভিযোগ
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল এসআই সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলুল হকের নির্দেশে সাদা পোশাকে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য পারভেজের বাড়িতে যান।

তাঁরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী পারভেজের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের কারণে তিনি আগে আদালতে মামলা করতে সাহস পাননি। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।