
ইরানের আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর ভাষায়, শুরুতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছিল, ‘আমরা এক পয়সাও দেব না’, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসে অর্থ ছাড় করেছে।
একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ জানান, আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি নিজেই কাতার সফর করেন। সেখানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রথম ধাপে ছয় বিলিয়ন ডলার এবং পরে আরও ছয় বিলিয়ন ডলার অবমুক্তের বিষয়ে সমঝোতা হয়।
তিনি বলেন, কাতারে আলোচনার সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষর হয় এবং বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কাতার সফর নিয়ে সমালোচনার জবাবে গালিবাফ বলেন, “আমরা যদি সেখানে না যেতাম, তাহলে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। শুধু স্লোগান নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই শর্ত পূরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবেই ইরান এই সাফল্য অর্জন করেছে। দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপমানিত হতে হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গালিবাফ জানান, ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালী এবং তেল রপ্তানি–সংক্রান্ত ধারাগুলোর বাস্তবায়নও সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া, সমঝোতার ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে অবমুক্ত হয়েছে এবং একই প্রক্রিয়ায় আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়টিও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি। লেবানন–সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারকের ১৪টি ধারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে কোনো নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ নেই।
নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ইরানের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং মতাদর্শ, ধর্ম বা বিশ্বাস নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
সূত্র: হামশাহরি
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

