
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার কেঁওচিয়া ও ঢেমশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় সাতকানিয়ার লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যার পানি অধিকাংশ এলাকা থেকে নেমে গেলেও এখনও অনেক পরিবার খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।
প্রতিটি পরিবারের জন্য বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজে ছিল ৫ কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ, ২ কেজি আলু, আধা কেজি চিড়া, আধা কেজি চিনি, একটি এনার্জি প্লাস বিস্কুট, একটি সাবান, ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি, দুটি বড় মোমবাতি, একটি লাইটার এবং একটি ব্যাগ।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ, সাতকানিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, এজিএম মো. শহীদুল ইসলামসহ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সাতকানিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,
“ভয়াবহ এই বন্যায় সাতকানিয়ার অসংখ্য পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পল্লী বিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নয়, দুর্যোগ-দুর্বিপাকেও মানুষের বিশ্বস্ত সহযাত্রী। এই খাদ্যসামগ্রী হয়তো সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, তবে সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার একটি অংশ। ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজনে আমরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 