
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দেশটির বিমানবাহিনীর একটি দল যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজসহ সৌদির পূর্বাঞ্চলের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ)’-এর আওতায় এই মোতায়েন করা হয়েছে। তারা একে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানি সামরিক দলের সঙ্গে যুদ্ধবিমান ছাড়াও বিভিন্ন সহায়ক উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, যৌথ সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার তথ্যমতে, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশ ‘এসএমডিএ’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়—এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রাক্কালে এই সামরিক মোতায়েন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকের আগে পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নেয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পাকিস্তান বিমানবাহিনী জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ছাড়াও সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান, আইএল-৭৮ জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার এবং অ্যাওয়াক্স নজরদারি বিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিরাপদে তেহরান থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং সম্ভাব্য কোনো নাশকতা ঠেকাতেই এই শক্তিশালী সামরিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পাকিস্তান। এই ‘আয়রন এসকর্ট’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে জোরদার করার বার্তাই দিচ্ছে ইসলামাবাদ।
দেশ বাংলা অনলাইন 

