ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়া থানার ওসির শ্রবণজনিত সমস্যা, সেবা নিয়ে বাড়ছে অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের দাবি, ওসির শ্রবণজনিত সমস্যা এবং আচরণগত দুর্বলতার কারণে থানায় সেবা নিতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি আলোচিত অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, কয়েকদিন আগে একটি নারী সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তিনি ওসির কক্ষে যান। তার ভাষ্য, এক মিনিটে বলা সম্ভব এমন বিষয় বুঝিয়ে বলতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, “একই কথা তিন থেকে পাঁচবার বলতে হয়েছে। পরে বিরক্ত হয়ে পাশে থাকা এক এসআইকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চাইলে ওসি আমাকে ধমক দিয়ে নিজেকেই বলতে বলেন।”
ওই ইউপি সদস্য প্রশ্ন তুলে বলেন, “১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার দায়িত্বে যদি এমন একজন কর্মকর্তা থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ সেবা পাবে কীভাবে? দেশে কি যোগ্য লোকের এতই অভাব?”

‘একই কথা বারবার বলতে হয়’

এক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, ওসির সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেক সময় তিনি কথা স্পষ্ট শুনতে পান না। আবার একই বিষয় পুনরায় বলতে হলে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “কখনও কখনও সম্মানজনক সম্বোধনের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি দেখা যায়। জনসম্মুখে এমন আচরণ মানুষকে বিব্রত করে। কখন কাকে ‘আপনি’, ‘তুমি’ বা ‘তুই’ বলতে হয়, সেটাও উনার নতুন করে শেখা প্রয়োজন।”
আরেক ভুক্তভোগীর দাবি, ওসির সঙ্গে একদিন যে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, পরদিন একই বিষয়ে কথা বলতে গেলে মনে হয় তিনি বিষয়টি আর মনে করতে পারেন না।
তিনি বলেন, “রাতে ফোনে বিস্তারিত ঘটনা শুনে পরদিন থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন থানায় গিয়ে একই বিষয় জানালে তিনি বলেন, এটা তো নিজেরাই সমাধান করতে পারেন, থানায় আসার কী দরকার? দুই দিনে দুই ধরনের বক্তব্যে আমি বিস্মিত।”

পুলিশের ভেতরেও আছে আলোচনা

থানার এক কর্মরত পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি চাকরি করি, তাই বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে মানুষের যেসব অভিযোগ শুনছেন, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি রয়েছে।”

বাসে আসন নিয়ে বিশেষ তৎপরতার অভিযোগ

ওসিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ উঠেছে গত ৩০ মে গভীর রাতে কেরানীহাট এলাকায় পুলিশের বিশেষ তৎপরতা নিয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেদিন রাত ১২টার পর কেরানীহাট বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকা থেকে আসা একের পর এক বাস থামানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওসির পছন্দমতো আসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাসে তল্লাশির নামে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে রাখা হয়।
ফলে রাত ১টার দিকে কেরানীহাট বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে একটি বাসে পছন্দসই আসন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সংক্রান্ত কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

অপরাধ বাড়লেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই?

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে অপরাধীদের তৎপরতা বেড়েছে।
গত ৩১ মে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গত ৪ জুন সন্ধ্যায় পূর্ব ছদাহার সন্দীপ্যাপাড়া এলাকায় ফরহাদ ডাক্তারের গরুর খামারে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
একই দিনে ছদাহার কড়ুপাড়ায় তিশান নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান আইনগত অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এক মাস আগে যোগদান

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ সার্কেলে কর্মরত ছিলেন এবং মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক থানায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যা বলছেন পুলিশ সুপার ও সুজন নেতা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “শারীরিক সমস্যা থাকতেই পারে। তবে জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে হবে। যদি কোনো সেবাপ্রার্থী সমস্যার সমাধান না পেয়ে ফিরে যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “কোনো কর্মকর্তার শ্রবণজনিত সমস্যা থাকলে আগে তার স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যদি দেখা যায় জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে তাকে এমন দায়িত্বে দেওয়া উচিত যেখানে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কম থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি থানার ওসি শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি যদি থানায় গিয়ে মানুষকে যথাযথ সেবা দিতে না পারেন, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও পড়তে পারে।”

সূত্র: দৈনিক পূর্বদেশ 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

সাতকানিয়া থানার ওসির শ্রবণজনিত সমস্যা, সেবা নিয়ে বাড়ছে অভিযোগ

প্রকাশিত: ০১:২৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের দাবি, ওসির শ্রবণজনিত সমস্যা এবং আচরণগত দুর্বলতার কারণে থানায় সেবা নিতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি আলোচিত অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, কয়েকদিন আগে একটি নারী সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তিনি ওসির কক্ষে যান। তার ভাষ্য, এক মিনিটে বলা সম্ভব এমন বিষয় বুঝিয়ে বলতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, “একই কথা তিন থেকে পাঁচবার বলতে হয়েছে। পরে বিরক্ত হয়ে পাশে থাকা এক এসআইকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চাইলে ওসি আমাকে ধমক দিয়ে নিজেকেই বলতে বলেন।”
ওই ইউপি সদস্য প্রশ্ন তুলে বলেন, “১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার দায়িত্বে যদি এমন একজন কর্মকর্তা থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ সেবা পাবে কীভাবে? দেশে কি যোগ্য লোকের এতই অভাব?”

‘একই কথা বারবার বলতে হয়’

এক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, ওসির সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেক সময় তিনি কথা স্পষ্ট শুনতে পান না। আবার একই বিষয় পুনরায় বলতে হলে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “কখনও কখনও সম্মানজনক সম্বোধনের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি দেখা যায়। জনসম্মুখে এমন আচরণ মানুষকে বিব্রত করে। কখন কাকে ‘আপনি’, ‘তুমি’ বা ‘তুই’ বলতে হয়, সেটাও উনার নতুন করে শেখা প্রয়োজন।”
আরেক ভুক্তভোগীর দাবি, ওসির সঙ্গে একদিন যে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, পরদিন একই বিষয়ে কথা বলতে গেলে মনে হয় তিনি বিষয়টি আর মনে করতে পারেন না।
তিনি বলেন, “রাতে ফোনে বিস্তারিত ঘটনা শুনে পরদিন থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন থানায় গিয়ে একই বিষয় জানালে তিনি বলেন, এটা তো নিজেরাই সমাধান করতে পারেন, থানায় আসার কী দরকার? দুই দিনে দুই ধরনের বক্তব্যে আমি বিস্মিত।”

পুলিশের ভেতরেও আছে আলোচনা

থানার এক কর্মরত পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি চাকরি করি, তাই বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে মানুষের যেসব অভিযোগ শুনছেন, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি রয়েছে।”

বাসে আসন নিয়ে বিশেষ তৎপরতার অভিযোগ

ওসিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ উঠেছে গত ৩০ মে গভীর রাতে কেরানীহাট এলাকায় পুলিশের বিশেষ তৎপরতা নিয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেদিন রাত ১২টার পর কেরানীহাট বাজার এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকা থেকে আসা একের পর এক বাস থামানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওসির পছন্দমতো আসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাসে তল্লাশির নামে দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে রাখা হয়।
ফলে রাত ১টার দিকে কেরানীহাট বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে একটি বাসে পছন্দসই আসন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সংক্রান্ত কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

অপরাধ বাড়লেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই?

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে অপরাধীদের তৎপরতা বেড়েছে।
গত ৩১ মে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গত ৪ জুন সন্ধ্যায় পূর্ব ছদাহার সন্দীপ্যাপাড়া এলাকায় ফরহাদ ডাক্তারের গরুর খামারে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
একই দিনে ছদাহার কড়ুপাড়ায় তিশান নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান আইনগত অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এক মাস আগে যোগদান

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ সার্কেলে কর্মরত ছিলেন এবং মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক থানায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যা বলছেন পুলিশ সুপার ও সুজন নেতা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “শারীরিক সমস্যা থাকতেই পারে। তবে জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে হবে। যদি কোনো সেবাপ্রার্থী সমস্যার সমাধান না পেয়ে ফিরে যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “কোনো কর্মকর্তার শ্রবণজনিত সমস্যা থাকলে আগে তার স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যদি দেখা যায় জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে তাকে এমন দায়িত্বে দেওয়া উচিত যেখানে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কম থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি থানার ওসি শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি যদি থানায় গিয়ে মানুষকে যথাযথ সেবা দিতে না পারেন, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির ওপরও পড়তে পারে।”

সূত্র: দৈনিক পূর্বদেশ