ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ার আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ নম্বর আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ইউপি সদস্যদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা এবং পরিষদের কার্যক্রমে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন পরিষদের সাতজন সদস্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আধুনগর ইউনিয়নের সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউপি সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ মে সাতজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের আবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউপি সদস্য আবুল হাসান ও ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পরিষদের সভা ও রেজুলেশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে পরিষদের বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, ইউপি সদস্যদের ১৭ মাসের বেতন-ভাতার প্রায় ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বকেয়া ভাতার বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ, প্রকল্পের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কারা পেয়েছেন—এসব বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দের সঙ্গে কাজের মিল পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান সালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মাটি ও বালুবাহী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাটি ও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ইউপি সদস্যরা।
তাদের আরও অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্যসহ মোট ছয়জনকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় মিথ্যাভাবে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান নিজেও জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত লোহাগাড়া থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া গ্রাম আদালতের সালিস, জন্মসনদ ও ওয়ারিশ সনদে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তারা।
তবে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।”
লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন বলেন, “ইউপি সদস্যদের অনাস্থা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।”

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

লোহাগাড়ার আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৯:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ নম্বর আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ইউপি সদস্যদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা এবং পরিষদের কার্যক্রমে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন পরিষদের সাতজন সদস্য।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আধুনগর ইউনিয়নের সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউপি সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ মে সাতজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের আবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউপি সদস্য আবুল হাসান ও ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পরিষদের সভা ও রেজুলেশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে পরিষদের বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, ইউপি সদস্যদের ১৭ মাসের বেতন-ভাতার প্রায় ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বকেয়া ভাতার বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ, প্রকল্পের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কারা পেয়েছেন—এসব বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বরাদ্দের সঙ্গে কাজের মিল পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান সালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মাটি ও বালুবাহী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাটি ও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন ইউপি সদস্যরা।
তাদের আরও অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্যসহ মোট ছয়জনকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় মিথ্যাভাবে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান নিজেও জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত লোহাগাড়া থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া গ্রাম আদালতের সালিস, জন্মসনদ ও ওয়ারিশ সনদে অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তারা।
তবে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।”
লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন বলেন, “ইউপি সদস্যদের অনাস্থা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।”