ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রামিসা সেই সময় হয়তো মায়ের ডাক খুঁজেছিল, পৃথিবী যে এত নিষ্ঠুর বুঝতে পারেনি’

  • বাংলানিউজ
  • প্রকাশিত: ১২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৪৫ পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীর এক নিঃশব্দ ঘরে যেন থমকে আছে সময়। সেই ঘরের দেয়ালে হয়তো এখনো ঝুলে আছে ছোট্ট স্কুলব্যাগ, বিছানার পাশে পড়ে আছে খাতা-কলম, আর কোণায় রয়ে গেছে এক শিশুর ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্বপ্নের টুকরো।

সেই ঘরেই ছিল সাত বছরের শিশু রামিসার হাসি, ছিল তার মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু সেই হাসি আর কখনো ফিরে আসবে না, কারণ সেই ঘরই পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর, হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির নীরব সাক্ষীতে।

স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো রামিসা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন রোড-৭, বাসা-৩৭ নম্বরের একটি পাঁচতলা ভবনের তিনতলার একটি কক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটে এই নির্মম ঘটনা।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই জঘন্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। তারা হলেন, সোহেল রানা (৩০) ও স্বপ্না আক্তার (২৬)। তারা স্বামী-স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পল্লবী থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। শুরু হয় তদন্ত, সংগ্রহ করা হয় গুরুত্বপূর্ণ আলামত, আর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত এগিয়ে যায় অভিযানের ধারা।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরে মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশের চৌকস টিম। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি এবং শিশুটির লাশের অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ভয়াবহ খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শিশু রামিসাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় কান্না, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়। কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না, একটি সাত বছরের নিষ্পাপ শিশুর জীবনের পরিণতি এভাবে হতে পারে।

রামিসা হয়তো বুঝতে পারেনি, তার চারপাশের পৃথিবী এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। হয়তো শেষ মুহূর্তেও সে মায়ের ডাক খুঁজেছিল, নিরাপত্তার আশ্রয় চেয়েছিল। কিন্তু সেই পৃথিবীই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে এমন এক অমানবিক বাস্তবতা, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

আজ সেই ঘরে আর কোনো হাসি নেই, নেই ছোট্ট পায়ের দৌড়ঝাঁপ। আছে শুধু নিস্তব্ধতা, আছে এক মায়ের বুকফাটা কান্না, আর পুরো সমাজের সামনে রেখে যাওয়া এক গভীর প্রশ্ন, আমাদের শিশুরা?

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

‘রামিসা সেই সময় হয়তো মায়ের ডাক খুঁজেছিল, পৃথিবী যে এত নিষ্ঠুর বুঝতে পারেনি’

প্রকাশিত: ১২:৩২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীর এক নিঃশব্দ ঘরে যেন থমকে আছে সময়। সেই ঘরের দেয়ালে হয়তো এখনো ঝুলে আছে ছোট্ট স্কুলব্যাগ, বিছানার পাশে পড়ে আছে খাতা-কলম, আর কোণায় রয়ে গেছে এক শিশুর ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্বপ্নের টুকরো।

সেই ঘরেই ছিল সাত বছরের শিশু রামিসার হাসি, ছিল তার মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু সেই হাসি আর কখনো ফিরে আসবে না, কারণ সেই ঘরই পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর, হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির নীরব সাক্ষীতে।

স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো রামিসা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন রোড-৭, বাসা-৩৭ নম্বরের একটি পাঁচতলা ভবনের তিনতলার একটি কক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটে এই নির্মম ঘটনা।

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই জঘন্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। তারা হলেন, সোহেল রানা (৩০) ও স্বপ্না আক্তার (২৬)। তারা স্বামী-স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পল্লবী থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। শুরু হয় তদন্ত, সংগ্রহ করা হয় গুরুত্বপূর্ণ আলামত, আর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত এগিয়ে যায় অভিযানের ধারা।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরে মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশের চৌকস টিম। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি এবং শিশুটির লাশের অংশসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ভয়াবহ খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শিশু রামিসাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় কান্না, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়। কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না, একটি সাত বছরের নিষ্পাপ শিশুর জীবনের পরিণতি এভাবে হতে পারে।

রামিসা হয়তো বুঝতে পারেনি, তার চারপাশের পৃথিবী এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। হয়তো শেষ মুহূর্তেও সে মায়ের ডাক খুঁজেছিল, নিরাপত্তার আশ্রয় চেয়েছিল। কিন্তু সেই পৃথিবীই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে এমন এক অমানবিক বাস্তবতা, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

আজ সেই ঘরে আর কোনো হাসি নেই, নেই ছোট্ট পায়ের দৌড়ঝাঁপ। আছে শুধু নিস্তব্ধতা, আছে এক মায়ের বুকফাটা কান্না, আর পুরো সমাজের সামনে রেখে যাওয়া এক গভীর প্রশ্ন, আমাদের শিশুরা?