ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লেবাননে অভিযান থামাবে না ইসরাইল

যুদ্ধবিরতির ১০ প্রস্তাবের একটি মানবে না ইসরাইল

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বেশিরভাগ অংশে সম্মতি মিললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরাইল। বিশেষ করে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধের যে প্রস্তাব ছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে তেল আবিব। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে। তবে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখছে ইসরাইল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প এর উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য—ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, আরব প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এসব লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন থাকবে না—যদিও এটি ইরানের শর্তগুলোর একটি ছিল।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব অঞ্চলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের জেরে ২ মার্চ থেকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন। ওই সময় ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, এটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের হামলায় দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তারা ‘বাফার জোন’ তৈরির লক্ষ্যে আরও এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, চুক্তির এই ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

লেবাননে অভিযান থামাবে না ইসরাইল

যুদ্ধবিরতির ১০ প্রস্তাবের একটি মানবে না ইসরাইল

প্রকাশিত: ০৩:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বেশিরভাগ অংশে সম্মতি মিললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরাইল। বিশেষ করে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধের যে প্রস্তাব ছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে তেল আবিব। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে। তবে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখছে ইসরাইল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প এর উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য—ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, আরব প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এসব লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন থাকবে না—যদিও এটি ইরানের শর্তগুলোর একটি ছিল।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব অঞ্চলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের জেরে ২ মার্চ থেকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন। ওই সময় ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, এটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের হামলায় দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তারা ‘বাফার জোন’ তৈরির লক্ষ্যে আরও এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, চুক্তির এই ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু