
ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধারকাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
এ সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হতাহতের এই তথ্য মিডিয়াকে নিশ্চিত করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
মৃতের সংখ্যা হাজার হাজার হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ডেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পের এই পরিস্থিতিকে একটি ‘সত্যিকারের ট্র্যাজেডি’ বা বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে; এর পরপরই মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বহু ভবন ধসে পড়েছে। পরপর শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
অন্যদিকে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) বলছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছে যে মৃতের সংখ্যা সম্ভবত ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে হতে পারে।
ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সব ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট। রদ্রিগেজ বলেন, ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য খাতের সকল কর্মীকে তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
দেশটিতে চলমান সংকটে দেশের সকল স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে, মেট্রো ও রেল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, জরুরি নয় এমন সকল ধরনের ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাইকেটিয়া সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে বিমানবন্দরটি আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলানিউজ 

