ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ, দুই দিন পর শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে নিল ২৮ জনকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও টানা বাধার মুখে প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় রাখার পর শনিবার তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা গেলেও শনিবার সকাল থেকে তারা আর সেখানে ছিলেন না। গোয়েন্দা তথ্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, বিএসএফ তাদেরকে ফেরত নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। ওই দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু ছিল।
খবর পেয়ে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ও আড়াইটায় দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। রাতের আঁধারে কাউকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে বিএসএফ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া তারা ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। ফলে কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় এবং ২৮ জনকে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হয়।
বিজিবির অনুরোধে বিএসএফ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলেও বৃহস্পতিবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাতে হয় নারী ও শিশুদের। আমগাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে তারা রাত পার করেন। এ সময় শূন্যরেখা থেকে নারী-শিশুদের কান্নার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিজিবির অনড় অবস্থান ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিএসএফ ওই ২৮ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ, দুই দিন পর শূন্যরেখা থেকে ফিরিয়ে নিল ২৮ জনকে

প্রকাশিত: ০৫:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও টানা বাধার মুখে প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় রাখার পর শনিবার তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা গেলেও শনিবার সকাল থেকে তারা আর সেখানে ছিলেন না। গোয়েন্দা তথ্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, বিএসএফ তাদেরকে ফেরত নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর এলাকা দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। ওই দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু ছিল।
খবর পেয়ে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ও আড়াইটায় দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। রাতের আঁধারে কাউকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে বিএসএফ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া তারা ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। ফলে কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় এবং ২৮ জনকে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হয়।
বিজিবির অনুরোধে বিএসএফ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করলেও বৃহস্পতিবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাতে হয় নারী ও শিশুদের। আমগাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে তারা রাত পার করেন। এ সময় শূন্যরেখা থেকে নারী-শিশুদের কান্নার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিজিবির অনড় অবস্থান ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিএসএফ ওই ২৮ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।