
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও সহায়তার লক্ষ্যে ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প’-এর অবহিতকরণ (ইনসেপশন) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এইচএসবিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (DRMP) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের আকস্মিক বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে ঘরবাড়ি, নিরাপদ পানির উৎস, শৌচাগার, কৃষি ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনে প্রকল্পের আওতায় ১৩০টি পরিবারকে দুর্যোগ-সহনশীল ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা, ৮টি টিউবওয়েল মেরামত ও প্ল্যাটফর্ম উঁচু করা, ৮০টি বসতঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণ এবং ৮০টি পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধার সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ১৭৫টি পরিবারকে কৃষি ও পুষ্টি উপকরণ, ১৩টি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত এবং ২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৭৫টি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের চট্টগ্রামের সহকারী জেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ মহিন উদ্দিন। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রজেক্ট ম্যানেজার কামরুল হাসান জিলানী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, জুলাইয়ের আকস্মিক বন্যায় সাতকানিয়ার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ব্র্যাক ও এইচএসবিসি ব্যাংকের এ মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনমান পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রভাবমুক্ত থেকে সঠিক ব্যক্তিদের বাছাই করে সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দ্রুত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও জীবিকা অর্জনের উপযোগী করে তোলা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণও দেওয়া হবে। উপকারভোগী নির্বাচনে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একই প্রকল্পের আওতায় সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ও কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোট ৪০০টি ল্যাট্রিন, ৩০টি টিউবওয়েল, ২৫০টি বসতঘর, ৩০০ পরিবারের জীবিকা ও ৬০০ পরিবারের কৃষি-পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৫০টি বিদ্যালয় মেরামত, ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ এবং ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনার উদ্যোগ রয়েছে।
দেশ বাংলা অনলাইন 












