
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ক্রেতার ছদ্মবেশে একটি জুয়েলারি দোকানে ঢুকে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে সোনা লুটের চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পৌর সদরের বিবিরহাট এলাকার নিউ টুনটু জুয়েলার্সে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকান সূত্রে জানা গেছে, বোরকা পরিহিত এক নারী স্বাভাবিক ক্রেতার মতো দোকানে প্রবেশ করে প্রথমে সোনার হার, চুড়ি ও কানের দুল দেখতে চান। দোকানকর্মীরাও নিয়ম অনুযায়ী একে একে গয়না বের করে দেখাতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ওই নারী বোরকার ভেতর থেকে মরিচের গুঁড়ার একটি প্যাকেট বের করে দোকানের তিন কর্মচারীর চোখেমুখে ছিটিয়ে দেন। আকস্মিক এ ঘটনায় মুহূর্তেই দোকানের ভেতরে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
চোখে তীব্র জ্বালা ও অস্বস্তির মধ্যেও দোকানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে প্রায় সাড়ে তিন ভরি সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই নারী। তবে কর্মচারীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতায় তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। এক কর্মচারী দ্রুত তার হাত চেপে ধরেন। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে আটক করেন।
এদিকে পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ ওই নারী বোরকার ভেতর থেকে মরিচের গুঁড়ার একটি প্যাকেট বের করে দোকানের তিন কর্মচারীর চোখেমুখে ছিটিয়ে দেন। এরপর ওই নারী দোকান থেকে স্বর্ণলংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক কর্মচারী তাকে ধরিয়ে পেলেন। ভিডিওটি দেখে নেটিজেনরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই দিনদুপুরে এমন ঘটনার সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ কেউ দোকানকর্মীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক নারীকে হেফাজতে নেয়। আটক নারীর নাম সালমা আকতার। তিনি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় থাকেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউ টুনটু জুয়েলার্সের মালিক সুমন ধর বলেন, “প্রথমে আমরা বুঝতেই পারিনি তিনি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এসেছেন। হঠাৎ মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গয়না নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কর্মচারীদের দ্রুত পদক্ষেপে সব গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
ফটিকছড়ি থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম খান বলেন, আটক নারীর বিরুদ্ধে এর আগেও উপজেলার আরেকটি জুয়েলারি দোকানে চুরির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

