ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেটওয়ার্ক নেই, গাছে উঠে হাজিরা পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঘাইছড়িতে অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষকের আমগাছে ওঠার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। পরে সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা পাঠাতে গিয়ে প্রথমে বিদ্যালয়ের ছাদে ওঠেন শিক্ষক আবু তাহের। সেখানে নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় যান। তাতেও কাজ না হওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে একটি আমগাছে উঠে মোবাইল সিগন্যাল খুঁজে পান।
শিক্ষক আবু তাহের বলেন, “চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে। অন্য কোনো উপায় ছিল না।”
প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই রাঙামাটির বাস্তব চিত্র সামনে চলে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলার ৭০৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭০টি বিদ্যালয় থেকে হাজিরার তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ, এসব এলাকার বড় অংশ এখনও মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে।
জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলে অনলাইন হাজিরা দেওয়া সহজ হলেও পাহাড়ি অঞ্চলে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি।
একদিকে ডিজিটাল হাজিরার সরকারি নির্দেশনা, অন্যদিকে পাহাড়ের বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে গাছে উঠে হাজিরা দেওয়া শিক্ষক আবু তাহেরের ছবি যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রযুক্তিগত বৈষম্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

নেটওয়ার্ক নেই, গাছে উঠে হাজিরা পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

প্রকাশিত: ১১:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঘাইছড়িতে অনলাইন হাজিরা দিতে গিয়ে এক প্রধান শিক্ষকের আমগাছে ওঠার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে হাজিরা খাতার ছবি পাঠান পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। পরে সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা পাঠাতে গিয়ে প্রথমে বিদ্যালয়ের ছাদে ওঠেন শিক্ষক আবু তাহের। সেখানে নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় যান। তাতেও কাজ না হওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে একটি আমগাছে উঠে মোবাইল সিগন্যাল খুঁজে পান।
শিক্ষক আবু তাহের বলেন, “চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে হয়েছে। অন্য কোনো উপায় ছিল না।”
প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই রাঙামাটির বাস্তব চিত্র সামনে চলে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলার ৭০৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭০টি বিদ্যালয় থেকে হাজিরার তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ, এসব এলাকার বড় অংশ এখনও মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে।
জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলে অনলাইন হাজিরা দেওয়া সহজ হলেও পাহাড়ি অঞ্চলে এটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি।
একদিকে ডিজিটাল হাজিরার সরকারি নির্দেশনা, অন্যদিকে পাহাড়ের বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে গাছে উঠে হাজিরা দেওয়া শিক্ষক আবু তাহেরের ছবি যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রযুক্তিগত বৈষম্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।