ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধের শঙ্কা

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের দস্তিদার হাট এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডলু ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দস্তিদার হাটের পূর্ব পাশে কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের ওপর দিয়ে ইতোমধ্যে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সড়কের আরও কয়েকটি স্থানে পানি উঠে এসেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সড়কটি বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ।
এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে সাতকানিয়া পৌরসভা, কেঁওচিয়া, ছদাহা, বাজালিয়া, আমিলাইষ, চরতি ও নলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘর ও বসতঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
অপরদিকে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ডলু ও সাঙ্গু নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে আমিলাইষ, চরতি, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোয়ালিয়া পাড়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটিয়াপাড়া দক্ষিণাংশের মৌলভীপাড়ায় ডলু নদীর পানি ঢুকে কোমরসমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখিল চৌধুরীপাড়ার অনেক পরিবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে, অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলতে এবং শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধের শঙ্কা

প্রকাশিত: ১০:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের দস্তিদার হাট এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডলু ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দস্তিদার হাটের পূর্ব পাশে কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের ওপর দিয়ে ইতোমধ্যে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সড়কের আরও কয়েকটি স্থানে পানি উঠে এসেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সড়কটি বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ।
এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে সাতকানিয়া পৌরসভা, কেঁওচিয়া, ছদাহা, বাজালিয়া, আমিলাইষ, চরতি ও নলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘর ও বসতঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
অপরদিকে, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ডলু ও সাঙ্গু নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে আমিলাইষ, চরতি, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোয়ালিয়া পাড়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটিয়াপাড়া দক্ষিণাংশের মৌলভীপাড়ায় ডলু নদীর পানি ঢুকে কোমরসমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখিল চৌধুরীপাড়ার অনেক পরিবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে, অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলতে এবং শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”