ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সেনা–পুলিশসহ ১৬ জন আহত

খাগড়াছড়িতে গুলিতে ৩ জন নিহত

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় ভয়াবহ সংঘর্ষ ও দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য এবং গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষও হতাহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সরকারি অফিস–বসতবাড়ি–দোকানপাটে আগুন

স্থানীয় সূত্র জানায়, অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকালে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দিয়ে পিকেটিং চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অবরোধকারীরা বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়ে রামসু বাজারে সরকারি অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ একাধিক অফিস ভস্মীভূত হয়। পাশাপাশি দোকানপাট, মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু বসতবাড়িও পুড়ে যায়।

প্রশাসনের অবস্থান

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান—
আমি এসপিসহ এখানে অবস্থান করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা এখনো বাড়তে পারে।”ষ

 

গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন,
পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ১৪৪ ধারা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়। পরে সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে লাগাতার সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

শনিবারও (২৭ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি শহরে অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। প্রশাসন তখনই গুইমারা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং বিজিবি মোতায়েন করে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়—

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়ায় রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষিত

সেনা–পুলিশসহ ১৬ জন আহত

খাগড়াছড়িতে গুলিতে ৩ জন নিহত

প্রকাশিত: ১০:১১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় ভয়াবহ সংঘর্ষ ও দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য এবং গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষও হতাহত হয়েছেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

সরকারি অফিস–বসতবাড়ি–দোকানপাটে আগুন

স্থানীয় সূত্র জানায়, অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকালে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দিয়ে পিকেটিং চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অবরোধকারীরা বিক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়ে রামসু বাজারে সরকারি অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ একাধিক অফিস ভস্মীভূত হয়। পাশাপাশি দোকানপাট, মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু বসতবাড়িও পুড়ে যায়।

প্রশাসনের অবস্থান

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান—
আমি এসপিসহ এখানে অবস্থান করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা এখনো বাড়তে পারে।”ষ

 

গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন,
পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ১৪৪ ধারা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়। পরে সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে লাগাতার সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

শনিবারও (২৭ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি শহরে অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। প্রশাসন তখনই গুইমারা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং বিজিবি মোতায়েন করে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়—

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।