
ডেস্ক রিপোর্ট ,দেশবাংলা ডটনেট
এ করোনার চেয়েও ভয়াবহ বর্ণবাদের মহামারি।দেশে তীব্র করোনা সঙ্কট তার মধ্যে এই সামাজিক সঙ্কটে গোটা আমেরিকা।গেলা ২৫ মে’র ঘটনা। আফ্রিকান-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ও সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস অঙ্গরাজ্যের এক পুলিশ সদস্য।এক নিমিষেই সেটি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছে মিনিয়াপলিস পুলিশ বিভাগ। এদের মধ্যে ফ্লয়েডকে হত্যার দায়ে ৪৪ বছর বয়সী দেরেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে পুলিশি অত্যাচারে এই কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভের তীব্রতায় ইতোমধ্যেই অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।৫০ স্টেটের ১৬৩ সিটিতে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে এদিন অহিংস পথে আন্দোলনে সামিল হওয়া প্রতিবাদীদের সমর্থন করতেও দেখা যায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও।
কিন্তু বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা নামানোর হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় গেলো শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সামনে লাগাতার বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে কিছুক্ষণের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় । একটু বলে রাখি দর্শক এই বাঙ্কার তৈরি করা হয় কোনরকম সন্ত্রাসী হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে জরুরিকালীন ব্যবস্থা হিসাবে সরিয়ে নেবার লক্ষ্যে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে চোখ হারালেন দুই সাংবাদিক। বিক্ষোভের সময় গোলাগুলিতে মারা গিয়েছে লোয়া রাজ্যে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীসহ দুইজন।
এবার ওই যুবক হাটুর চাপে যেভাবে প্রাণ হারায়, সেই ভঙ্গি করে সোমবার অনুশীলনে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন লিভারপুলের সব ফুটবলাররা। সমর্থন জানিয়েছেন মেসিরাও। অন্যদিকে দানবীয় ব্যাটসম্যান গেইল ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন তিনিও বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন সময়।
একটা মানুষ কালো বা ফর্সা হয়ে জন্মানোতে তার নিজের কোন হাত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে শত শত বছর ধরে বর্ণবাদ নামের যে মহামারি চলছে, তা করোনাভাইরাস মহামারির কাছে যেন কিছুই না; তা যেন আরও ভয়াবহ। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ যেভাবে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে, তা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বহুবার দেশটিতে এমন ঘটনা দেখা গেছে। অর্থাৎ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

