ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ফাটল’, শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলাকে ঘিরে Donald Trump প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য ও বিভক্তি ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, Israel-এর সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত এককভাবেই নিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সেই বিতর্কের মধ্যেই বড় ধাক্কা দিলেন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান Joseph Kent পদত্যাগ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ। কেন্টই প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করলেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগপত্রে কেন্ট লেখেন,
“বিবেকের তাড়নায় আমি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। Iran যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। স্পষ্টতই Israel ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশ করা হয়েছে, যা গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই পদত্যাগ অনেক কর্মকর্তাকেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনের অধীনে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো স্পষ্ট হুমকি ছিল না—এমন ধারণাই এখন জোরালো হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও এই যুদ্ধে অনাগ্রহ স্পষ্ট। Germanyসহ বেশ কয়েকটি দেশ সরাসরি জানিয়েছে, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। Spain এমনকি তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ার অবস্থানও নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে আসছে। ফলে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্প ও Benjamin Netanyahu বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্টের পদত্যাগ ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস কিংবা জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়।
উল্লেখ্য, কেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক Tulsi Gabbard-এর। যদিও ইরান ইস্যুতে এখন পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড মনোনীত হলেন চুনতির কৃতি সন্তান কফিল উদ্দিন লিটু

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ফাটল’, শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

প্রকাশিত: ০৯:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলাকে ঘিরে Donald Trump প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য ও বিভক্তি ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, Israel-এর সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত এককভাবেই নিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সেই বিতর্কের মধ্যেই বড় ধাক্কা দিলেন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান Joseph Kent পদত্যাগ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ। কেন্টই প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করলেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পদত্যাগপত্রে কেন্ট লেখেন,
“বিবেকের তাড়নায় আমি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। Iran যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। স্পষ্টতই Israel ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশ করা হয়েছে, যা গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই পদত্যাগ অনেক কর্মকর্তাকেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনের অধীনে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো স্পষ্ট হুমকি ছিল না—এমন ধারণাই এখন জোরালো হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও এই যুদ্ধে অনাগ্রহ স্পষ্ট। Germanyসহ বেশ কয়েকটি দেশ সরাসরি জানিয়েছে, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। Spain এমনকি তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ার অবস্থানও নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে আসছে। ফলে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্প ও Benjamin Netanyahu বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্টের পদত্যাগ ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস কিংবা জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়।
উল্লেখ্য, কেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক Tulsi Gabbard-এর। যদিও ইরান ইস্যুতে এখন পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি।