শত বছরের অবহেলিত দুই ত্রিপুরা পাড়া এখন আর অবহেলিত নয়- ইলিয়াস হোসেন

হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরা পাড়ায় জেলা প্রশাসক
খোরশেদ আলম শিমুল
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, একশ বছরের বেশী সময় ধরে অবহেলিত দুই ত্রিপুরা পাড়া এখন আর অবহেলিত নয়। আমরা যেভাবে শহরে সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকি ঠিক সেভাবে এ পাড়ার অধিবাসীরাও বসবাস করবে সে লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ পাড়া থেকেই একজন সুশিক্ষিত মেধাবী ছাত্র বের হবে যে কিনা আমার মত একজন জেলা প্রশাসক হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদনের জন্য খেলার মাঠের প্রয়োজন,তিনি বলেন শুধু পড়ালেখা করলেই হবেনা পাশাপাশি লাগবে বিনোদনের জন্য একটি খেলার মাঠ। আগামি ছয় মাস একবছরের মধ্যে সরকারি খাস জায়গায় একটি খেলার মাঠ করে দেয়া হবে। যাতে ঐ পাড়া থেকে সাকিব আল হাসানের মত একজন খেলোয়ার বের হয়ে আসে। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মনাই ত্রিপুরা পাড়ায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন।
শনিবার(২৪আগষ্ট)দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলঅ প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন ত্রিপুরা পাড়ার অধিবাসীদের উদ্দেশ্য আরো বলেন,বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্নের মধ্যে আপনারাও থাকবেন। আমরা যেভাবে সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকি আপনারাও থাকবেন। বাচ্চাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার অনুরোধ জানিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন আপনাদের এখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে সেখানে সন্তানদের নিয়মিত পাঠাবেন। পরবর্তীতে কস্ট করে হলেও স্কুল, কলেজে পাঠাবেন। লেখাপড়া সংক্রান্তে আপনাদের সব ধরনের খরচ জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিলাম। টাকার অভাবে যাতে কারো লেখাপড়ায় ব্যাঘাত না ঘটে। শুধু এ বৃত্তি নয় সামনে আরো অনেক কিছু করা হবে শর্ত শুধু বাচ্চাদের শিক্ষিত করতে হবে। আপনাদের যে কোন সমস্যায় উপজেলা ইউএনওর দ্বারস্থ হবেন জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হবেন। আমাদের দরজা আপনাদের জন্য সর্বদা খোলা। চলাচলের কাঁচা রাস্তা বর্ষা মৌসুমের পর সলিন করে দেয়া হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন বৃষ্টিতে যেভাবে কস্ট করে চলাচল করছেন সামনে আর করতে হবেনা বর্ষা মৌসুমের পর পরই সলিন করে দেয়া হবে। আপনাদের দাবিনুযায়ী প্রার্থনার জন্য একটি মন্দির করে দেয়া হবে।
হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্যে রাখেন, হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া,ফরহাদাবাদ ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আলি আকবর।শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন ত্রিপুরা পাড়ার পক্ষে শোচিন ত্রিপুরা।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন, হাটহাজারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা,স্থানীয় ইউপি সদস্য, পাড়ার অধিবাসীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে ঐ পাড়ার ৬০জন শিক্ষার্থীর মাঝে ষাট(৬০) হাজার টাকা ও চকলেট প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ।
ট্যাগ: