
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ১০ শতক জমিতে চাষ করা সূর্যমুখী ফুলের বাগান রাতের আঁধারে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল গভীর রাতে উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চেঁদিরপুনি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের নাম হেমাঙ্গ বড়ুয়া (৫৭)। সে ওই এলাকার জীবন হরি বড়ুয়ার পুত্র।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক হেমাঙ্গ বড়ুয়া জানান, গত তিন বছর ধরে তিনি তার বাড়ির পার্শ্বে ১০শতক জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের বাগান করে আসছি। উপজেলা কৃষি অফিস পরীক্ষামূলকভাবে তেল উৎপাদনের জন্য সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। বিগত বছরের ধারাবাহিকতাই একই জায়গায় ফুল চাষ করেন। ফুলের সৌন্দর্য দেখে পথচারীরা বাগানে গিয়ে ফুল ধরে ছবি তুলে। ফুল ধরে ছবি তোলার দৃশ্য আমার ভালো লাগায় এতে আমি কাউকে নিষেধ করি নাই। তবে, বাগানে এসে অনেকেই ফুল ছিড়ে নিয়ে যেতো। যারা আসতে তাদের কে ছবি তুলতে বলেছি, ফুল ছিড়ে নিয়ে গেলে আমার তো এমনি আর্থিক ভাবে ক্ষতি হবে। রাতের আঁধারে কে বা কারা জমির সব গাছ ভেঙে ফেলেছে, বিষয়টি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে।
কৃষক হেমাঙ্গ বড়ুয়া আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপ-কৃষি কর্মকর্তার আন্তরিকতায় সূর্যমুখী ফুলের বাগান করতে আমি উৎসাহিত হয়েছি। আমি একজন জাত কৃষক। সবজি,পিঁয়াজ চাষ, ধানসহ বিভিন্ন ধরণের চাষাবাদ করে থাকি।অনেক মানুষ সুন্দর ও ভালো জিনিসের কোন মূল্যায়ন করেনা।
হেমাঙ্গ বড়ুয়ার স্ত্রী নীলু বড়ুয়া বলেন, আমার স্বামী তিন বছর ধরে সুর্য়মূখী ফুলের বাগান করে আসছে। কেউ আসলে ছবি তুলতে নিষেধ করিনি। তবে ফুলগুলো ছিঁড়ে নিয়ে যেতো। সকালে এসে দেখি আমাদের বাগান নষ্ট করে দেয়।
এ ব্লকের উপ-কৃষি কর্মকর্তা টিটু চক্রবর্তী বলেন, সরকারি প্রণোদনা থেকে এটি দেওয়া। প্রতি বছরে হেমাঙ্গ বড়ুয়া চাষ করে আসছিল। কৃষককে যাতে আমরা সৌন্দর্যের পাশাপাশি তেলের চাহিদা ও পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য আমরা কৃষকদের কে উদ্বুদ্ধ করি। সকালে এসে দেখেছি ভাল ছিল ফুলের বাগান। কিন্তু রাতের আঁধারে কিছু দুর্বৃত্তরা তার বাগানটি গাছগুলো ভেঙে ফেলে।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজি শফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনে উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। আগামীতে হেমাঙ্গ বড়ুয়াকে দিয়ে আরও বড় পরিসরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ভাবে প্রণোদনা আসলে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 
