
রায়হান সিকদার,দেশবাংলা ডট নেটঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ছুটার পাড়া এলাকায় ডলু খালের পাড় ঘেষে চলাচলের রাস্তার ভাঙন তিন বছরেও সংস্কার না হওয়ায় দূর্ভোগ বেড়ে চরমে। অভিযোগের শেষ নেই বললেই চলে।
বর্ষার শুরুতে গত কয়েকদিনে টানা ভারি ভর্ষণে পাহাড়ী ঢলে ডলু নদী পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ভাঙ্গতে শুরু করেছে ছাটার পাড়ায় খালের পাড়। ভেঙে গেছে পাড় ঘেষা চলাচলের রাস্তা। দূর্ভোগে পড়েছে চলাচলরত জনসাধারণ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,সড়কটির নাজুক অবস্থা। হেঁটে, বাইসাইকেল ও মোটর সাইকের নিয়ে কোন মতে পার হওযা যায়। তিন চাকা বা চার চাকার কোন গাড়ি চলাচল করা যায় না। যান চলাচলে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। দুর্ভোগের শেষ নেই বললেই চলে।
স্থানীয়রা, গত তিন বছরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো: ইউনুছের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরহা পায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও দেখে না দেখার ভান করে। স্থানীয়রা কয়েকবার দিজেদের অর্থায়নে সড়কটি মেরামত করেছেন।
নিরপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া শাখার সদস্য ও ওই এলাকার বাসিন্দা মো: জাহেদুল হক বলেন, সড়কটি দিয়ে বর্তমানে হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সবসময় কথা দিয়ে থাকে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্ষার শুরু আগাম বার্তা দিল ডলু খালের পাড় ঘেষা ছুটার পাড়া সড়কটি পাড় ভেঙে সড়ক ভাঙন। সড়কের প্রায় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় শফিক আহমদ বলেন, আমি প্রবাসে থাকতাম গত বছর প্রবাস থেকে দেশে এসেছি। স্ত্রীর কাছে শুনতাম ডলু খালের পাড় ভেঙে ছুটার পাড়ার সড়কটি ভেঙে গেছে। চলাচল করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। দেশে এসে নিজের চোখে দেখলাম সড়কটির প্রায় অংশ নদীতে বিলীন। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করলে চেয়ারম্যান সাহেব বাজেট আসলে সড়ক সংস্কার করে দিবে বলে জানান। তবে কতো বাজেট আসল কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষার শুরতে ভঙন শুরু হয়েছে। সামনে কি হয় আল্লাহ জানেন।
ওই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আবুল হাশেম বলেন, ডলু খালে বালু উত্তোলনের ফলে খালের গভীরতা বেড়ে যায়। যার ফলে নদীর ডাড় ঘেষা সড়কটি খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় ওয়াদা দিয়েও ওয়াদা রক্ষা করছে না। চেয়ারম্যান একবারের জন্য আমাদের দেখতে আসেনি, সড়ক সংস্কার করবে কেমনে।
নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, গাড়ি ভর্তি লোকজন নিয়ে কয়েকবার চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়েও কোন প্রকার সুরহা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ডা: সবুজ কান্তি নাথ বলেন, ভাঙনটি আমরা এবং আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের নজরে আছে। ভঙনটি বড় হওয়াতে পরিষদে এতো বাজে না থাকায় চেয়ারম্যান সাহেব কতবার নিজ উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার এনে দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার কথাটি অটপটে স্বীকার করেন।
পুটিবিলা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সুজিত বড়ুয়া কাজল বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভাঙন স্থান পরিদর্শন করে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। জুলাই মাসের শুরুতে ছুটার পাড়ায় ডলু খালের পাড় ঘেষে সড়কের ভঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: কামরুল হোসাইন বলেন, পুটিবিলা ছুটার পাড়ায় খালের পাড় সড়কে ভাঙনে এ রকম কোন অাবেদন নিয়ে অফিসে আসেনি।
উপজেলা প্রকৌশলী দিবাকর রায় বলেন, পুটিবিলা ১ নং ওয়ার্ড ছুটার পাড়া এলাকায় ডলু খালের ভাঙনে রাস্তা ভেঙে গেছে এ ব্যাপারে কেউ জানায়নি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

