
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবৈধ দখলদার কর্তৃক বনবিভাগের জায়গায় পাহাড় কেটে সরকারী ছরা(খাল) স্হায়ী বাঁধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলার চুনতি বড় মৌলানা বাড়ীর মৃত ছাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র ছৈয়দ উদ্দিন ছিদ্দিকি এবং মাইজুদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বাদী হয়ে চুনতি নলবনিয়া এলাকার মুুহাম্মদ আইয়ুব, জাহেদ, শহীদকে বিবাদী করে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উল্লেখিত বাদীগণ উপজেলার চুনতি ৪নং ওয়ার্ডস্থ বিএস-২০০৫ নং খতিয়ান ও বিএস-১০৭২ খতিয়ানের মালিক হন। ওই জায়গায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় শতবছরের একটি ছরা রয়েছে। ওই ছরার পাশে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা চাষাবাদ করে থাকে। কিন্তু প্রতিপক্ষ আইয়ুব বিএস দাগ ৭০১১ মৌজা এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়(বন বিভাগ) ৭০১০-বিএস দাগে পাহাড় থেকে মাটি কেটে ছরা ভরাট করে জমি তৈরী করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করে। ফলে ছরা(খাল) এর পানি ভরাট করার কারণে পানি চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের জমির পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। বিগত কিছুদিন পুর্বে চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান ছরার বাঁধ খুলে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে কয়েকবার বললেও তারা সেটা শুনেনি।
এ ব্যাপারে মুহাম্মদ ছৈয়দ উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, ছরাটি দীর্ঘ ১০০বছরেরর। এ ছরা দিয়ে পানি চলাচল করতো। পার্শ্বে আমাদের জমি রয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষরা ছরাটি বাঁধ দিয়ে দখল করে নেওয়ার কারণে আমাদের কৃষি জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। বনবিভাগের কোন পাহাড় কাটা যাবেনা। যারা পাহাড় কেটে ছরা ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত মুহাম্মদ জাহেদ জানান, বিষয়টি সত্য নয়। আমরা কোন বনবিভাগের জায়গায় ছরা দখল করিনি।
চুনতি ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জনু কোম্পানী জানান, বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ করার পর শুনানী শেষে ছরার বাঁধ খুলে দিয়ে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিপক্ষদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি এবং বাদীকে একটি ডিক্রীও প্রদান করেছি ।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ছরা ভরাট সংক্রান্তে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।এটা বনবিভাগের জায়গা। উনারা আমার সহযোগিতা চাইলে বিধিমত ব্যবস্থা নিব। আবেদনকারীকে পরামর্শ দিয়েছি বন বিভাগ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য,সার্ভেয়ার ও তহশিলদার কে নির্দেশ দিয়েছি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 


