
রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের তেওয়ারিখিলে ১৯৫০ সালে বুড়ি পুকুর পাড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় তেওয়ারিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২৩৭ জন এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৫ জন। দুই শিফটে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।

১৯৭১ সালের দিকে পাকা ভবন পায় বিদ্যালয়টি। তবে বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মাঝেমাঝে ছাদের প্লাস্টার ঝরে পড়ে। কোথাও কোথাও প্লাস্টার উঠে গিয়ে রড দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে কাগজপত্র ভিজে যায়। পাশেই রয়েছে তিন কক্ষ বিশিষ্ট আরেকটি একতলা ভবন । তবে ওই ভবনে যেতে আলাদা কোন পথ নেই। বাধ্য হয়ে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা দিয়েই যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন নবী জানান, স্কুলের পড়াশুনা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা দরকার। পুকুর পাড় দিন দিন ভেঙ্গে স্কুলের সামনের জায়গা ছোট হয়ে আসছে। পুকুর পাড়ে কোন নিরাপত্তা দেওয়াল বা বেষ্টনী না থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশংকায় থাকি।
প্রধানশিক্ষক নুরুল আমিন জানান, নতুন ভবনের ৩টি কক্ষে ক্লাস চলে; কক্ষ সংকটের জন্য প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস করতে হয় সিঁড়িঘরে। তাছাড়া বাধ্য হয়ে পুরাতন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে এখন ৫ম শ্রেণির পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য আবিদ হোছাইন মানু প্রকাশ মানু কনট্রাকটর জানান, পুরাতন ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বেশ কয়েকবার উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোন কাজ হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার নুরুল আমিন জানান,বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ থাকেনা।
শিক্ষার্থীরা সবসময় আতংকে থাকে। বর্ষার সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চাইনা। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কার্যক্রম।তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আকরাম হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনটিতে কোন ক্লাস না করার জন্য ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমগ্র উপজেলায় যে কয়টা ঝুঁকিপূর্ণ ভবণ রয়েছে তা চিহ্নিত করার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে তেওয়ারিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ জানান, এ সর্ম্পকে আগে জানা ছিল না। এখন জানলাম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি শীঘ্রই ভেঙ্গে ফেলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 

























