
আনন্দের মুহূর্ত কখন যে শোকে পরিণত হয়, তা কেউই আগে থেকে বুঝতে পারে না। খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে ছোট্ট খালাতো বোনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফিফা আবেদীন (২২)। সঙ্গে ডুবে নিভে গেল মাত্র আট বছরের শিশু হুজাইরা নূরের জীবনও।
শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের নওরগা পাড়ায় ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, খালাতো বোন হুজাইরা পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে যায়। আতঙ্কে চিৎকার শোনে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন আফিফা। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস—হুজাইরাকে আঁকড়ে ধরতে গিয়েই নিজেও পানির গভীরতায় তলিয়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর অচেতন অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে কেরানিহাট আশশেফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
হুজাইরা ছিল পরিবারের সবার চোখের মণি। আর আফিফা ছিলেন সবার গর্ব—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনা শেষ করে বড় হয়ে দেশ-বিদেশে কিছু করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু এক নিমিষেই সব স্বপ্ন ভেসে গেল পুকুরের পানিতে।
আফিফার এই আত্মত্যাগে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষ বলছে—“নিজের জীবন দিয়ে হলেও বোনকে বাঁচাতে চাইছিল আফিফা। ভালোবাসার এমন দৃষ্টান্ত ভোলা যাবে না।”
ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, সিরাজুল ইসলামের বাড়ির পেছনের অংশে একটি পুকুর রয়েছে। বিকেলে দুই খালাতো বোন পুকুরঘাটে যান। একপর্যায়ে হুজাইরা ঘাট থেকে পড়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। তাকে বাঁচাতে আফিফা ঝাঁপ দেন। সাঁতার না জানায় আফিফাও ডুবে যান। এর আধা ঘণ্টা পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পরিবারের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণ শেষে তারা খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখানে ঘটে গেল এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।
একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নবাজ তরুণী, অন্যদিকে শিশু বয়সেই প্রাণবঞ্চিত হুজাইরা—তাদের চলে যাওয়া দুই পরিবারকেই করেছে শোকে বিধ্বস্ত। পুকুরপাড়ে এখন কেবল কান্নার ধ্বনি আর আফিফার আত্মত্যাগের গল্পই ঘুরপাক খাচ্ছে।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

























