ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসুন আমরা আরো সচেতন ও সতর্ক হই

 

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া বাসী আসসালামু আলাইকুম। আমরা ভীষণ কঠিন সময় পার করছি। আমাদের জীবদ্দশায় এরূপ কঠিন ও অনিশ্চিত সময় আসেনি। এই কারণে অনেকেই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না মর্মে তাদের কার্যকলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে। অনেকেই সরকার তথা রাস্ট্রের নিয়মনীতি ও এ সংক্রান্তে প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করছেন না। এ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক করত নিন্মোক্ত বিষয়সমূহ যথাযথ ভাবে অনুসরণ করতে অনুরোধ করছিঃ

# সামাজিক দায়িত্বঃ

★ অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বাসা-বাড়ি থেকে বের হবেন না। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি মেনে চলতে হবে এবং একস্থান হতে অন্য স্থানে গমনাগমন সম্পুর্ন বন্ধ❎ রাখতে হবে।

★ অতি জরুরী প্রয়োজনে বের হতে হলে সোসাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। একজন ব্যক্তি থেকে অন্যজন ৩-৬ ফুট দুরত্বে থেকে আপনার জরুরি কাজ সম্পাদন করবেন।

★ ফার্মেসী ও মুদি দোকান ব্যতীত সকল দোকান বন্ধ রাখবেন।

★ সকল ধরনের জমায়েত, আড্ডা থেকে বিরত থাকবেন।

★ বাসায় বসে ইবাদত বন্দেগী করবেন। এই বিপদ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া ও প্রার্থনা করবেন। অন্য ধর্মের লোকজন তাদের ধর্ম মতে প্রার্থনা করবেন।

★ কোন প্রকার গুজবে কান দিবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না।

★ সামর্থবানরা আশেপাশের গরিব ও দুঃস্থদের পরামর্শ, খাদ্য, সাবান ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে এই দুঃসময়ে পাশে থাকবেন।
★ হালাল ব্যবসা করবেন। এই বিপদে মানুষের পাশে থাকতে না পারলেও মজুতদারি ও অধিক মূল্য হাকিয়ে মানুষের দুর্ভোগ এর কারন হবেন না। একদিন সবকিছুর ই বিচার হবে।

★ হিংসা বিদ্দেষ না ছড়িয়ে একে অন্যকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে উজ্জীবিত রাখুন ও থাকুন।

# ব্যক্তিগত দায়িত্বঃ

★ মার্চ মাসে যেসকল প্রবাসী দেশে এসেছেন তারা অতি অবশ্যই ” হোম কোয়ারেন্টাইন ” অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রুমে অবস্থান করবেন। কারো সাথে মেলামেশা করবেন না। খাবারের জন্য আলাদা প্লেট বাটি ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে আলাদা বাথরুম ব্যবহার করবেন।

★ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কালে কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে ৩-৬ ফুট দুরত্বে অবস্থান করে মুখে মাস্ক পরে কথা বলবেন।

★ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে যারা খাবার পরিবেশন করবেন তারাও মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লোবস পরবেন।

★ যেকোনো কিছু ধরার পূর্বে ও পরে ভালোভাবে হাত সাবান/ হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করবেন।

★ নাকে-মূখে-চোখে হাত দিবেন না। যদি বিশেষ প্রয়োজনে দিতে হয় তবে অবশ্যই সাবান/ হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

★ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব থাকলে কোনকিছু ধরার আগে-পরে তা দিয়ে হাত জীবানু মুক্ত করে নিবেন।

★ হাচি কাশি দেওয়ার সময় শিষ্ঠাচার মেনে চলবেন। হাচি কাশির সময় নাকে-মুখের ধারে টিস্যু পেপার ধরবেন। টিস্যু পেপার না থাকলে হাত বা কনুই ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন।

★ ব্যবহৃত টিস্যু পেপার ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন।

★ কাপড়-চোপড় ও আশপাশ পরিস্কার রাখবেন।

★ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার সাধারন নিয়ম মেনে চলবেন।

★ খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোন সামগ্রী অত্যাধিক পরিমানে কিনে সংকট সৃষ্টি করবেন না। রিজিকের মালিক আল্লাহ মনে রাখবেন।

★ পুলিশসহ এই বিপদে যারা আপনাদের সাথে আছে তাদের সহযোগিতা করুন।

আসুন না উপরোক্ত বিষয়সমূহ মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করি। একে অন্যকে বাচতে সহযোগিতা
করি। যদিও জন্ম মৃত্যু মহান আল্লাহর হাতে। তবে মহান আল্লাহ তো চেষ্টা করতে বারন করেননি বরং উৎসাহ দিয়েছেন। ভূলে যাবেন না ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লু কেড়ে নিয়েছিল ৫ কোটি মানুষের প্রান। আসুন সবাই সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহর নিকট অনুগ্রহ ও ক্ষমা চাই। তিনিই সর্বশক্তিমান। তিনিই হেফাজতকারী। আল্লাহ সহায়।আমীন।

অনুরোধক্রমে
হাসানুজ্জামান মোল্যা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
সাতকানিয়া সার্কেল, চট্টগ্রাম।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়ায় রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষিত

আসুন আমরা আরো সচেতন ও সতর্ক হই

প্রকাশিত: ০৮:৩২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

 

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া বাসী আসসালামু আলাইকুম। আমরা ভীষণ কঠিন সময় পার করছি। আমাদের জীবদ্দশায় এরূপ কঠিন ও অনিশ্চিত সময় আসেনি। এই কারণে অনেকেই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না মর্মে তাদের কার্যকলাপে প্রতীয়মান হচ্ছে। অনেকেই সরকার তথা রাস্ট্রের নিয়মনীতি ও এ সংক্রান্তে প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করছেন না। এ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক করত নিন্মোক্ত বিষয়সমূহ যথাযথ ভাবে অনুসরণ করতে অনুরোধ করছিঃ

# সামাজিক দায়িত্বঃ

★ অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বাসা-বাড়ি থেকে বের হবেন না। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি মেনে চলতে হবে এবং একস্থান হতে অন্য স্থানে গমনাগমন সম্পুর্ন বন্ধ❎ রাখতে হবে।

★ অতি জরুরী প্রয়োজনে বের হতে হলে সোসাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। একজন ব্যক্তি থেকে অন্যজন ৩-৬ ফুট দুরত্বে থেকে আপনার জরুরি কাজ সম্পাদন করবেন।

★ ফার্মেসী ও মুদি দোকান ব্যতীত সকল দোকান বন্ধ রাখবেন।

★ সকল ধরনের জমায়েত, আড্ডা থেকে বিরত থাকবেন।

★ বাসায় বসে ইবাদত বন্দেগী করবেন। এই বিপদ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া ও প্রার্থনা করবেন। অন্য ধর্মের লোকজন তাদের ধর্ম মতে প্রার্থনা করবেন।

★ কোন প্রকার গুজবে কান দিবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না।

★ সামর্থবানরা আশেপাশের গরিব ও দুঃস্থদের পরামর্শ, খাদ্য, সাবান ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে এই দুঃসময়ে পাশে থাকবেন।
★ হালাল ব্যবসা করবেন। এই বিপদে মানুষের পাশে থাকতে না পারলেও মজুতদারি ও অধিক মূল্য হাকিয়ে মানুষের দুর্ভোগ এর কারন হবেন না। একদিন সবকিছুর ই বিচার হবে।

★ হিংসা বিদ্দেষ না ছড়িয়ে একে অন্যকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে উজ্জীবিত রাখুন ও থাকুন।

# ব্যক্তিগত দায়িত্বঃ

★ মার্চ মাসে যেসকল প্রবাসী দেশে এসেছেন তারা অতি অবশ্যই ” হোম কোয়ারেন্টাইন ” অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রুমে অবস্থান করবেন। কারো সাথে মেলামেশা করবেন না। খাবারের জন্য আলাদা প্লেট বাটি ব্যবহার করবেন। সম্ভব হলে আলাদা বাথরুম ব্যবহার করবেন।

★ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কালে কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে ৩-৬ ফুট দুরত্বে অবস্থান করে মুখে মাস্ক পরে কথা বলবেন।

★ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে যারা খাবার পরিবেশন করবেন তারাও মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লোবস পরবেন।

★ যেকোনো কিছু ধরার পূর্বে ও পরে ভালোভাবে হাত সাবান/ হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করবেন।

★ নাকে-মূখে-চোখে হাত দিবেন না। যদি বিশেষ প্রয়োজনে দিতে হয় তবে অবশ্যই সাবান/ হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

★ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব থাকলে কোনকিছু ধরার আগে-পরে তা দিয়ে হাত জীবানু মুক্ত করে নিবেন।

★ হাচি কাশি দেওয়ার সময় শিষ্ঠাচার মেনে চলবেন। হাচি কাশির সময় নাকে-মুখের ধারে টিস্যু পেপার ধরবেন। টিস্যু পেপার না থাকলে হাত বা কনুই ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন।

★ ব্যবহৃত টিস্যু পেপার ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন।

★ কাপড়-চোপড় ও আশপাশ পরিস্কার রাখবেন।

★ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার সাধারন নিয়ম মেনে চলবেন।

★ খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোন সামগ্রী অত্যাধিক পরিমানে কিনে সংকট সৃষ্টি করবেন না। রিজিকের মালিক আল্লাহ মনে রাখবেন।

★ পুলিশসহ এই বিপদে যারা আপনাদের সাথে আছে তাদের সহযোগিতা করুন।

আসুন না উপরোক্ত বিষয়সমূহ মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করি। একে অন্যকে বাচতে সহযোগিতা
করি। যদিও জন্ম মৃত্যু মহান আল্লাহর হাতে। তবে মহান আল্লাহ তো চেষ্টা করতে বারন করেননি বরং উৎসাহ দিয়েছেন। ভূলে যাবেন না ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লু কেড়ে নিয়েছিল ৫ কোটি মানুষের প্রান। আসুন সবাই সচেতন ও সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহর নিকট অনুগ্রহ ও ক্ষমা চাই। তিনিই সর্বশক্তিমান। তিনিই হেফাজতকারী। আল্লাহ সহায়।আমীন।

অনুরোধক্রমে
হাসানুজ্জামান মোল্যা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
সাতকানিয়া সার্কেল, চট্টগ্রাম।