
নিজস্ব প্রতিবেদক,লোহাগাড়াঃ
লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদে বিচারে অাসা বাদী-বিবাদীদের মধ্যো হাতাহাতিসহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
১৩ ডিসেম্বর রবিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিষদের বারান্দায় এ ঘটনাটি ঘটে।
অাধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: নাজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে ।
আহতরা হলেন, উপজেলার আধুনগর উত্তর হরিণা চৌধুরী পাড়া (৮ নং ওয়ার্ড) এলাকার লোকমান মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান (২৩), জাহাঙ্গীর আলম(২৮), আবুর হাসেম এর ছেলে রাকিবুল ইসলাম(১৫), মো: ইয়াছিন(২৪) ও মৃত অাব্দুল বারির পুত্র দেরাজ মিয়া (৫৫), দেরাজ মিয়ার পুত্র মোঃ মিজান
ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন আগে মতিউর রহমানের ছেলে নবী হোসেন ও কায়কোবাদ চৌধুরীর ছেলে জোবাইর চৌধুরীর উপস্থিতিতে নুর হোসাইনের ছেলে ইকবাল হোসেন অাধুনগর হাসপাতাল সড়কে অাবুল কাশেমের ছেলে রাকিবকে মারধর করে। রাকিব তাদের অভিযুক্ত করে অাধুনগর ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন। বিচারের ধার্য্য তারিখে অন্যরা উপস্থিত হলেও বিবাদী জোবাইর উপস্থিত হননি। বিচারকার্য্য চলাকালে নবী হোসেন বেরিয়ে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পরিষদ থেকে বাইরে চলে যায়। পরে পরিষদ থেকে তার মোবাইলে ফোন দিলে সে বিচারের রায় মানবে না বলে মোবাইল কেটে দেন। এতে অসমাপ্ত অবস্থায় বিচারের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বিচার শেষে চেয়ারম্যান পরিষদের নিজ কক্ষে চলে যান এবং ইউপি সদস্যরা পরিষদ থেকে চলে যায়। এর পরপরই পরিষদের ভিতরেই বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ ব্যাপারে অাধুনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: নাজিম উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ছবি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। গত কয়েকদিন আগে একই অভিযোগে মারামারির ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়ে বাদী-বিবাদীদের পরিষদে ডাকা হয়। অভিযোগের বাদী ও ২ জন বিবাদী হাজির হলে ইউপি সদস্য অাবুল হাসান, মো: ফরিদুল অালম ও সমাজের সর্দারের সমন্বয়ে বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়। বিচার চলাকালীন সময় নবী হোসেন নামের বিবাদী কাউকে কিছু না বলে চলে যাওয়ায় পরের রবিবার বিচারের পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়। বিচার কার্যক্রম শেষ করে অামি অফিসে বসি এবং ইউপি সদস্যরা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর বাইরে হৈ-চৈ অাওয়াজ শুনে বের হয়ে উভয় পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা দেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে থানা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ হাতাহাতির ঘটনায় জড়িতদের থানা হেফাজতে নিয়ে যায।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, অাধুনগর ইউনিয়ন পরিষদে বিচার নিয়ে বাদী-বিবাদীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় পরিষদ থেকে ৯ জনকে থানা হেফাজতে নিয়ে অাসা হয়েছে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য অাবুল হাসান ও এলাকার সর্দারের জিম্মায় ভবিষ্যতে এ ধরণের কোন ঘটনা করবে মর্মে লিখিত মুছলেখা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 


