
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে।কেন্দ্রটির সামনে গো-মুত্রের দূর্গন্ধে ভরপুর। বিভিন্ন এলাকা থেকে এই স্থানে ময়লাগুলো ফেলে দুর্ঘটনা ছাড়াচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যকর্মী ( স্বাস্থ্য পরিদর্শক) স্নিগদা পাল ও অফিস সহায়ক হিসেবে দুইজনে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার লোকজন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে পরিত্যক্ত জুতা-সেন্ডেল, প্লাস্টিক বোতল, নারিকেলের খোসা, ঔষধের কাগজ, ছোট্ট শিশুদের ডায়াপার, বাড়ির ময়লা, খাবার পরিবেশনের পরে খালি প্যাকেট। এমনকি পুরনো, জীর্ণ কাঁথা-বালিশ পর্যন্ত ফেলছে। এসব বর্জ্যে গিজ গিজ করছে।এমনকি কোরবানির ঈদের সময় গরু জবাই করার পর সব ময়লাগুলো এই স্থানে ফেলা হয়। চোখে পড়ে শুধু বর্জ্য। যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের পরে ডলুখাল রয়েছে। ময়লার ভাগাড় গুলো সেখানে না ফেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে প্রতিনিয়ত ফেলছে ময়লা-আবর্জনা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ময়লার স্তুপ ও নিচু জায়গা হওয়ার কারণে পানিও জমে থাকার কারণে ঘটতে পারে সেখানে মশার বিস্তার।
সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে। এ সব জমানো পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ব্যাপকহারে মশার বিস্তার ঘটতে পারে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনেই ময়লার স্তুপ। এ ময়লার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এছাড়া পাশেই ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। এতে করে এখানে এডিস মশার জন্মা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ময়লা স্তুপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ মানুষকেও মুখে কাপড় গুজে রাখতে হয়।ময়লা-আবর্জনার ময়লার দুর্গন্ধে সুস্থ্য মানুষও অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক সাজেদা আকতার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে ময়লার স্তুপের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, এলাকার লোকজন ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকেরা এই জায়গাতে ময়লা-আবর্জনাগুলো প্রতিনিয়ত ফেলে যাচ্ছে। আমি তাদেরকে বার বার নিষেধ করেছি।ময়লার স্তুপের কারণে আমার নিজেরেই শ্বাসকস্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদের সময় সবধরণের বর্জ্যগুলো এখানে ফেলে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলে তারা দুর্গন্ধের মধ্যে পোহাতে হয়। বর্ষা কালে অনেক পানি জমে থাকে। খালি জায়গাতে বাথরুমের ময়লাগুলো ছেড়ে দেয়। নিঃশ্বাস ফেলতে খুব বেশি কস্ট হয়। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানকে অবগত করবেন বলেও তিনি জানান।
এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার অনেক লোক রয়েছে যারা সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করে থাকে। তারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য নেই বলেই এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ।এখানে ময়লার স্তুপের কারণে দুর্গন্ধে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশের ময়লা আবর্জনার জন্য দুর্গন্ধে বসা যায় না। স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কেন্দ্রের পাশ থেকে ময়লা আবর্জনা সরানো হলে রোগীরা উপকৃত হবে।
এ ব্যাপারে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্নিগদা পাল বলেন, আমাদের এ কেন্দ্রের সামনে ময়লার স্তুপে অফিস করা মশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে অবগত করবো।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার বিষয়টি জেনেছি। এলাকার লোকজনকে এ বিষয়ে বার বার নিষেধ করার পরও তারা সেখানে ময়লা গুলো ফেলছে। এসব ময়লাগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কেউ ফেলে নি। জমে থাকা ময়লার স্তুপটি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে খুব দ্রুত সময়ে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 
