ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি বনবিভাগের যৌথ অভিযানে কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি অভয়ারণ্য এলাকা সংলগ্ন কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ কেটে অপসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি অভয়ারণ্য বনবিভাগ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন এবং চুনতি অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ বাঁধ কেটে দেন।

জানা গেছে, এলাকার স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কুলপাগলীর ছড়া বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি বিক্রয় করার লক্ষ্যে পানি মজুদ করছেন। এতে অভয়ারণ্য এলাকায় পানির সংকট ও পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। বনের আশপাশের ছড়ায় বাঁধ দিয়ে চাষের জমিতে পানি বিক্রয় করার পরিকল্পনা করে এলাকার প্রভাবশালীরা।

উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি অভয়ারণ্য বনবিভাগের যৌথ অভিযানে এ বাঁধ কেটে দেওয়া দিয়ে ছড়ার স্বাভাবিক রুপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

চুনতি অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার বলেন, প্রাকৃতির বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতি রোধ করায় চুনতি অভয়ারণ্যের বন্যপ্রাণীর খাবারের পানি স্বল্পতাসহ নানা প্রাকৃতিক সমস্যা সৃষ্টি হবে। এতে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। আমরা বনবিভাগের পক্ষ কিছুদিন পুর্বে অভিযান চালিয়ে কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করেছিলাম। কিন্তু প্রভাবশালীরা পুণরায় দখল করে নেয় কুলপাগলি ছড়ার বাঁধ। খবর পেয়ে বনবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এ বাঁধ কেটে দিয়ে স্বাভাবিক রুপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাঁধ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বনবিভাগের বিভাগের জায়গা কোন ভাবেই দখল করা যাবেনা। আমরা ইতিমধ্যে বেদখলে থাকা অনেক বনবিভাগের জায়গা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জায়গা উদ্ধার করেছি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন বলেন, কুলপাগলি ছড়াটি এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা মিলে দখল করে নেয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট কূলপাগলীর ছড়ায় কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করে ছড়ার স্বাভাবিক রুপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ধরণের কর্মকান্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি বনবিভাগের যৌথ অভিযানে কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ

প্রকাশিত: ০১:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুনতি অভয়ারণ্য এলাকা সংলগ্ন কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ কেটে অপসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি অভয়ারণ্য বনবিভাগ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন এবং চুনতি অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এ বাঁধ কেটে দেন।

জানা গেছে, এলাকার স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কুলপাগলীর ছড়া বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি বিক্রয় করার লক্ষ্যে পানি মজুদ করছেন। এতে অভয়ারণ্য এলাকায় পানির সংকট ও পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। বনের আশপাশের ছড়ায় বাঁধ দিয়ে চাষের জমিতে পানি বিক্রয় করার পরিকল্পনা করে এলাকার প্রভাবশালীরা।

উপজেলা প্রশাসন ও চুনতি অভয়ারণ্য বনবিভাগের যৌথ অভিযানে এ বাঁধ কেটে দেওয়া দিয়ে ছড়ার স্বাভাবিক রুপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

চুনতি অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার বলেন, প্রাকৃতির বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতি রোধ করায় চুনতি অভয়ারণ্যের বন্যপ্রাণীর খাবারের পানি স্বল্পতাসহ নানা প্রাকৃতিক সমস্যা সৃষ্টি হবে। এতে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। আমরা বনবিভাগের পক্ষ কিছুদিন পুর্বে অভিযান চালিয়ে কুলপাগলীর ছড়ার কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করেছিলাম। কিন্তু প্রভাবশালীরা পুণরায় দখল করে নেয় কুলপাগলি ছড়ার বাঁধ। খবর পেয়ে বনবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এ বাঁধ কেটে দিয়ে স্বাভাবিক রুপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাঁধ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বনবিভাগের বিভাগের জায়গা কোন ভাবেই দখল করা যাবেনা। আমরা ইতিমধ্যে বেদখলে থাকা অনেক বনবিভাগের জায়গা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জায়গা উদ্ধার করেছি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন বলেন, কুলপাগলি ছড়াটি এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা মিলে দখল করে নেয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট কূলপাগলীর ছড়ায় কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করে ছড়ার স্বাভাবিক রুপ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ধরণের কর্মকান্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।