
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রায় ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ, অপচয় ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ‘পরিষেবা এলাকা’, ‘পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার’ এবং ‘একটি টাগবোট’ তিনটি ভিন্ন খাত দেখিয়ে ৫৯.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামি হলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ ও সাবেক পরিচালক আলীম উদ্দিন আহমেদ।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক ও উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান এর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষাঙ্গিক খাতে প্রতিমাসে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২২ মাসে মোট খরচ হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, তবে টানেলের মাধ্যমে রাজস্ব এসেছে মাত্র ৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর ফলে সরকারের ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের অনুমোদিত মূল ডিপিপি ২০১৪ সালে ৬ হাজার কোটি টাকা ছিল, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২০২২ সালে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কল্পনাপ্রসূত ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে টানেলের মাধ্যমে ১০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন যানবাহন চলাচল করার কথা থাকলেও বাস্তবে ২২ মাসে মাত্র ২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন যানবাহনই চলাচল করেছে।
দুদক জানিয়েছে, অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে তিনটি খাত অন্তর্ভুক্ত করে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের কোনো রিপোর্টে এই তিন খাতের সুপারিশ ছিল না। এরপরও তা অনুমোদন দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোটি কোটি টাকা সম্মানী দেওয়া হয়।
দুদকের একটি কর্মকর্তা বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পটি মূলত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের ফল। প্রকল্পের পরিকল্পনা, বিচার বিশ্লেষণ এবং দাতা সংস্থার আর্থিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াই এটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো শিল্পবিপ্লব, নতুন শহর বা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, প্রকল্পের নথিপত্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছিল—কারিগরী শাখা, টানেল নির্মাণ দপ্তর এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখায় মোট ৩৮টি পৃথক নথি ছিল। এটি স্পষ্টই নির্দেশ করে যে, অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নথি তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছিল।
দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান। চার্জশিট দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রমাণ সাপেক্ষে অন্য সাবেক মন্ত্রীরাও মামলায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।-সূত্র বাসস
দেশ বাংলা অনলাইন 



















