ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসিনার ২১ বছর, জয়–পুতুলের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিন মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পৃথক দুই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২৩ নভেম্বর দুদক ও কারাগারে থাকা একমাত্র হাজির আসামি, রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান যুক্তিতর্কে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগ: ক্ষমতার শীর্ষে থেকে সুপরিকল্পিত ভূমি দখল

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়—
সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডের ছয়টি প্লট নিজেদের দখলে নেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আসামির তালিকা: সরকার–রাজউক মিলিয়ে দীর্ঘ দুর্নীতির চক্র

এই মামলাগুলোয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারসহ রাজউকের একঝাঁক সাবেক কর্মকর্তা অভিযুক্ত হন।

শেখ রেহানা, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকও পৃথক মামলার আসামি।
সবাই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে।

ছয় মামলায় বিস্তৃত তদন্ত

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুদক মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে। জুলাইয়ে ২৩ জনের নামে অভিযোগ গঠন করে আদালত। প্রতিটি মামলায় দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ভূমি বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরে দুদক।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

হাসিনার ২১ বছর, জয়–পুতুলের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ০৬:৩১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিন মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পৃথক দুই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২৩ নভেম্বর দুদক ও কারাগারে থাকা একমাত্র হাজির আসামি, রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান যুক্তিতর্কে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগ: ক্ষমতার শীর্ষে থেকে সুপরিকল্পিত ভূমি দখল

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়—
সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডের ছয়টি প্লট নিজেদের দখলে নেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আসামির তালিকা: সরকার–রাজউক মিলিয়ে দীর্ঘ দুর্নীতির চক্র

এই মামলাগুলোয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারসহ রাজউকের একঝাঁক সাবেক কর্মকর্তা অভিযুক্ত হন।

শেখ রেহানা, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকও পৃথক মামলার আসামি।
সবাই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে।

ছয় মামলায় বিস্তৃত তদন্ত

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুদক মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে। জুলাইয়ে ২৩ জনের নামে অভিযোগ গঠন করে আদালত। প্রতিটি মামলায় দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ভূমি বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরে দুদক।