
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশের পথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় (লন্ডন সময়) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনের বাসা থেকে হিথরো বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি—একটি যাত্রা, যা শুধু দেশফেরা নয়; স্মৃতি, অপেক্ষা ও বঞ্চনার দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে তারেক রহমানকে বিশেষভাবে এ-১ নম্বর সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লন্ডন হিথরো থেকে সিলেট হয়ে ঢাকার এই ফ্লাইটে বসেই শেষ হচ্ছে তার জীবনের দীর্ঘ নির্বাসনের অধ্যায়।
সূত্র জানায়, এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিশেষ নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। ফ্লাইট পরিচালনার প্রতিটি ধাপেই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয় রাখা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা এই রাজনৈতিক নেতা তার দেশে ফেরাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চান না। লন্ডন থেকেই সংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন—তার ফেরাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিমানযাত্রী হয়রানির শিকার না হন।
ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, বিজি-২০২ স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিট) লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করবে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণের পর প্রায় এক ঘণ্টা বিরতি নিয়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে বিমানটি। শেষপর্যায়ে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে পরিচালিত এই ফ্লাইটের রুট লন্ডন–সিলেট–ঢাকা। একজন উচ্চপর্যায়ের যাত্রীর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও সিকিউরিটি ব্যবস্থায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
১৭ বছর আগে যাত্রা শুরু হয়েছিল যে নির্বাসনের—আজ সেই অধ্যায়ের শেষ। বিজি-২০২ ফ্লাইটটি তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নয়, এটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ও স্বদেশে ফেরার প্রতীক।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















