ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সূর্যটা বিজয়েরঃ লিখেছেন কবি ও সাহিত্যিক নীলিমা আক্তার নীলা

লাল টুকটুকে
সূর্যটা দেখতে পাচ্ছ?
সূর্যটা বিজয়ের।
আমার খোকা বিজয় নিয়ে এসেছে।
বিশ্বাস হচ্ছে না?
দেখো দেখো ঐ দেখো
লাল সবুজের পতাকা নিয়ে
সবাই উল্লাস করছে
আনন্দ করছে
দৌড়াচ্ছে।
আর আমার খোকা রক্তের মিছিলে
নিশ্চুপ ঘুমিয়ে আছে।
তোমরা জানো?
খোকার শান্ত মুখখানা কেঁদেছিলো
কেঁদেছিলো মৃত্যুর আগে।
তোমরা কান্নার শব্দ শুনতে পাওনি?
তোমরা শুনতে পাওনি তার আহাজারি
বুকফাটা আর্তনাদ
মাটিতে লুটিয়ে পরা বিমর্ষ চিৎকার
শুনতে পাওনি?
তবে কেন?
কেন?
খোকাকে তোমরা ছিনিয়ে নিয়ে এলে না
কেন?
আমার খোকা তো বলেছিলো আসবে।
খোকা তো মিথ্যে বলেনা,
কক্ষনো বলেনা
কক্ষনো না।

সেদিনের মায়ের কান্নাটা
এমনি করুণ ছিল
কষ্টে মুড়ানো বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস ছিল।
সে কান্না সে আর্তনাদ এখনো থামেনি।
কিন্তু
ধরন পালটেছে।
বিড়বিড় করে কথা বলে হেঁটে যাওয়া
শত তালি দেয়া আঁচল খানা
মাটির সাথে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
বুঝতে অসুবিধা হয়নি একটু
সেদিনের খোকার মা
একজন শহিদের মা।
শত তালি দেয়া বস্ত্র
আমাকে কাঁদালো অনেকক্ষণ।
আমরা বিহঙ্গের মতো
উড়তে পারি এখন
আমরা স্বাধীন আমরা মুক্ত।
সত্যি কি তাই?
তবে একজন শহিদের মায়ের
শত তালি দেয়া বস্ত্র
আমাকে কেন কাঁদালো,
কেন মনে হলো-
এ কেমন স্বাধীনতা।
এ কেমন মুক্তির ইতিহাস।

লিখকঃ কবি ও সাহিত্যিক নীলিমা আকতার নীলা

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সূর্যটা বিজয়েরঃ লিখেছেন কবি ও সাহিত্যিক নীলিমা আক্তার নীলা

প্রকাশিত: ১১:১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

লাল টুকটুকে
সূর্যটা দেখতে পাচ্ছ?
সূর্যটা বিজয়ের।
আমার খোকা বিজয় নিয়ে এসেছে।
বিশ্বাস হচ্ছে না?
দেখো দেখো ঐ দেখো
লাল সবুজের পতাকা নিয়ে
সবাই উল্লাস করছে
আনন্দ করছে
দৌড়াচ্ছে।
আর আমার খোকা রক্তের মিছিলে
নিশ্চুপ ঘুমিয়ে আছে।
তোমরা জানো?
খোকার শান্ত মুখখানা কেঁদেছিলো
কেঁদেছিলো মৃত্যুর আগে।
তোমরা কান্নার শব্দ শুনতে পাওনি?
তোমরা শুনতে পাওনি তার আহাজারি
বুকফাটা আর্তনাদ
মাটিতে লুটিয়ে পরা বিমর্ষ চিৎকার
শুনতে পাওনি?
তবে কেন?
কেন?
খোকাকে তোমরা ছিনিয়ে নিয়ে এলে না
কেন?
আমার খোকা তো বলেছিলো আসবে।
খোকা তো মিথ্যে বলেনা,
কক্ষনো বলেনা
কক্ষনো না।

সেদিনের মায়ের কান্নাটা
এমনি করুণ ছিল
কষ্টে মুড়ানো বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস ছিল।
সে কান্না সে আর্তনাদ এখনো থামেনি।
কিন্তু
ধরন পালটেছে।
বিড়বিড় করে কথা বলে হেঁটে যাওয়া
শত তালি দেয়া আঁচল খানা
মাটির সাথে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
বুঝতে অসুবিধা হয়নি একটু
সেদিনের খোকার মা
একজন শহিদের মা।
শত তালি দেয়া বস্ত্র
আমাকে কাঁদালো অনেকক্ষণ।
আমরা বিহঙ্গের মতো
উড়তে পারি এখন
আমরা স্বাধীন আমরা মুক্ত।
সত্যি কি তাই?
তবে একজন শহিদের মায়ের
শত তালি দেয়া বস্ত্র
আমাকে কেন কাঁদালো,
কেন মনে হলো-
এ কেমন স্বাধীনতা।
এ কেমন মুক্তির ইতিহাস।

লিখকঃ কবি ও সাহিত্যিক নীলিমা আকতার নীলা