
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, “একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আমাদের অঙ্গীকার—যা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে তার ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ
ভাষণের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি সম্মান জানান সিইসি। তিনি আহত, নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
‘মানসম্মত নির্বাচন না হওয়া আমাদের যুগের হতাশা’
সিইসি বলেন,
“স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য আমাদের আত্মত্যাগ জাতির অমূল্য শক্তি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মানসম্মত নির্বাচন না হওয়া প্রায়ই আমাদের সামাজিক প্রত্যাশাকে হতাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।”
তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকার—একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক সংস্কার
সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরিতে বিগত এক বছরে কমিশনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
নতুন ভোটার যুক্ত করা এবং বাদ পড়া ভোটার পুনর্ভর্তি মিলিয়ে ৪৫ লাখ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২১ লাখ মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে।
নারী ভোটার অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ফলে পুরুষ–নারী ভোটারের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে আইন সংশোধন করা হয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, এখন থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ভোটার হওয়ার যোগ্যতার তারিখ কমিশন নির্ধারণ করবে। এর ফলে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যোগ্য তরুণরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
দেশে ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ
১৮ নভেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
এর মধ্যে—
পুরুষ ভোটার: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন
নারী ভোটার: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন
আইন, নীতিমালা ও নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার
কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত এক বছরে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) সংশোধন
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি হালনাগাদ
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের পরামর্শ বাস্তবায়ন
সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংস্কার কমিশনকে ধন্যবাদ জানান সিইসি নাসির উদ্দীন।
দেশ বাংলা অনলাইন 



















