ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে শিক্ষার্থী ইয়ামিন হত্যা: অভিযুক্ত এএসআই গ্রেফতার

সাভারে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলীকে। দীর্ঘ এক বছর ধরে পলাতক থাকার পর রোববার (৩ আগস্ট) ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুরাপাড়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিন বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় এএসআই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়া হয়। অভিযান সফল হলে তাকে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, সাভারে পণ্যমূল্য ও ন্যায্য অধিকার দাবিতে শিক্ষার্থী ও জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এমআইএসটি-এর ছাত্র আসহাবুল ইয়ামিনকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পাশের লোকজন মোবাইলে ধারণ করা ওই হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সরকারবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামে।

ইয়ামিন রাজধানীর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারে একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারেই নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও বিচার না পাওয়ায় বহুদিন ধরে হতাশ ছিল তার পরিবার ও সহপাঠীরা। তবে অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ আলীর গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশার আলো দেখতে পাচ্ছে তার পরিবার ও সাধারণ মানুষ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন না হলে পুলিশি দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই ইয়ামিন হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক প্রক্রিয়া যেন অবিলম্বে শুরু হয়, সে দাবি জানানো হয় বিভিন্ন পক্ষ থেকে।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাভারে শিক্ষার্থী ইয়ামিন হত্যা: অভিযুক্ত এএসআই গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

সাভারে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলীকে। দীর্ঘ এক বছর ধরে পলাতক থাকার পর রোববার (৩ আগস্ট) ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুরাপাড়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিন বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় এএসআই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়া হয়। অভিযান সফল হলে তাকে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, সাভারে পণ্যমূল্য ও ন্যায্য অধিকার দাবিতে শিক্ষার্থী ও জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এমআইএসটি-এর ছাত্র আসহাবুল ইয়ামিনকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পাশের লোকজন মোবাইলে ধারণ করা ওই হৃদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সরকারবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামে।

ইয়ামিন রাজধানীর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারে একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারেই নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও বিচার না পাওয়ায় বহুদিন ধরে হতাশ ছিল তার পরিবার ও সহপাঠীরা। তবে অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ আলীর গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশার আলো দেখতে পাচ্ছে তার পরিবার ও সাধারণ মানুষ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন না হলে পুলিশি দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই ইয়ামিন হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক প্রক্রিয়া যেন অবিলম্বে শুরু হয়, সে দাবি জানানো হয় বিভিন্ন পক্ষ থেকে।