ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়া ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, বদলি নাজির রিমন বড়ুয়া

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিস—নাম সরকারি, কিন্তু ভেতরে যেন চলত ঘুষের রাজত্ব। ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে সরকারি ফি’র চেয়ে ঘুষই ছিল প্রধান নিয়ম। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়া।

অবশেষে ঘুষ বাণিজ্যের এই ‘নায়ক’কে বদলি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে রিমন বড়ুয়াকে সাতকানিয়া থেকে সরিয়ে মীরসরাই উপজেলা ভূমি অফিসে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভূমি অফিসের ভেতরের চিত্র ছিল এক অঘোষিত ঘুষের আইনে পরিচালিত। শুনানির তারিখ নির্ধারণ থেকে শুরু করে রায়ের কপি পাওয়া—সব কাজেই চলত টাকা লেনদেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুনানির তারিখ ঠিক করতে রিমন বড়ুয়ার হাতে দিতে হতো পাঁচ হাজার টাকা। না দিলে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও কাজ হতো না। একইভাবে রায়ের কপি তুলতে লাগত একই অঙ্কের ঘুষ। সরকারি ফি দেওয়ার পরও রিমনের হাত গরম না করলে ফাইল নড়ত না।

স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভূমি অফিসে গেলে মনে হয় আমরা নাগরিক না, ভিক্ষুক। তারিখ নিতে ঘুষ, রায়ের কপি নিতে ঘুষ—এ কেমন প্রশাসন?”

স্থানীয় সাংবাদিক হারুন আর রশিদ বলেন, “আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে রিমন বড়ুয়া সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।”

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, রিমন বড়ুয়া অফিসের মূল ফাইলগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেছিলেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো নথি সরানো যেত না। ঘুষ দিলে ফাইল ‘উপরে যেত’, আর যারা দিত না, তাঁদের ফাইল বছরের পর বছর আটকে থাকত।

রিমন বড়ুয়ার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাতকানিয়ায় স্বস্তির হাওয়া বইছে। কেউ বলছেন, দেরিতে হলেও প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—শুধু বদলিই কি সমাধান?

এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “যদি শুধু মীরসরাই পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করে প্রশাসন, তাহলে সে নতুন জায়গাতেও একই কাজ শুরু করবে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।”

এদিকে সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান অফিসে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়া ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, বদলি নাজির রিমন বড়ুয়া

প্রকাশিত: ০১:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিস—নাম সরকারি, কিন্তু ভেতরে যেন চলত ঘুষের রাজত্ব। ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে সরকারি ফি’র চেয়ে ঘুষই ছিল প্রধান নিয়ম। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়া।

অবশেষে ঘুষ বাণিজ্যের এই ‘নায়ক’কে বদলি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে রিমন বড়ুয়াকে সাতকানিয়া থেকে সরিয়ে মীরসরাই উপজেলা ভূমি অফিসে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভূমি অফিসের ভেতরের চিত্র ছিল এক অঘোষিত ঘুষের আইনে পরিচালিত। শুনানির তারিখ নির্ধারণ থেকে শুরু করে রায়ের কপি পাওয়া—সব কাজেই চলত টাকা লেনদেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুনানির তারিখ ঠিক করতে রিমন বড়ুয়ার হাতে দিতে হতো পাঁচ হাজার টাকা। না দিলে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও কাজ হতো না। একইভাবে রায়ের কপি তুলতে লাগত একই অঙ্কের ঘুষ। সরকারি ফি দেওয়ার পরও রিমনের হাত গরম না করলে ফাইল নড়ত না।

স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভূমি অফিসে গেলে মনে হয় আমরা নাগরিক না, ভিক্ষুক। তারিখ নিতে ঘুষ, রায়ের কপি নিতে ঘুষ—এ কেমন প্রশাসন?”

স্থানীয় সাংবাদিক হারুন আর রশিদ বলেন, “আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে রিমন বড়ুয়া সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।”

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, রিমন বড়ুয়া অফিসের মূল ফাইলগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেছিলেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো নথি সরানো যেত না। ঘুষ দিলে ফাইল ‘উপরে যেত’, আর যারা দিত না, তাঁদের ফাইল বছরের পর বছর আটকে থাকত।

রিমন বড়ুয়ার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাতকানিয়ায় স্বস্তির হাওয়া বইছে। কেউ বলছেন, দেরিতে হলেও প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—শুধু বদলিই কি সমাধান?

এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “যদি শুধু মীরসরাই পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করে প্রশাসন, তাহলে সে নতুন জায়গাতেও একই কাজ শুরু করবে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।”

এদিকে সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান অফিসে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।