
অনলাইন পোর্টাল দেশবাংলায় ‘সাতকানিয়ায় আতঙ্কের নাম DH-69’ শিরোনামে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শোডাউন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ভীতি ছড়ানো এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে নেমেছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা ২০ মিনিট) অভিযান চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নামে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, শোডাউন এবং আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ বাড়তে থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ‘DH-69’ নামে একটি গ্রুপের সদস্যরা কেরানীহাট এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিল ও শক্তি প্রদর্শন করে। পরে সেই শোডাউনের ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি ভিডিওতে দেশীয় অস্ত্রসদৃশ বস্তু প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২ জুন) দেশবাংলাসহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় বিশেষ অভিযান।
প্রশাসন কেরানীহাট, ছদাহা ও বাজালিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার এলাকা, আড্ডাস্থল এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে অভিযান চালায়। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের নামে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, শোডাউন কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিশোররা না বুঝে কিংবা বন্ধুদের প্রভাবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাই আমরা প্রথমে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছি। তবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও আরও জানান, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতকানিয়াবাসীর প্রতি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের আশপাশে যদি কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা, অস্ত্র প্রদর্শন, মাদকসেবন বা জনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে, তাহলে প্রশাসনকে জানান। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়া যাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও, ছবি এবং বিভিন্ন পোস্টও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং নির্মূলে চলমান অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ বাংলা অনলাইন 
