ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ার বাাজালিয়ায় সাঙ্গু নদি থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে রক্ষা বাধ

সাতকানিয়ার বাজালিয়ায় শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকে গেলো যুগের পর যুগ। ভাঙন রোধে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানোর কাজ করছে। তবে স্থানীয় এক চেয়ারম্যান নিজ মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প স্থাপনের জন্য প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে একদিকে যেমন ভেস্তে যেতে বসেছে সাংসদের নেয়া মহতি উদ্যোগ, তেমনি ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকেই যাচ্ছে। বিগত প্রায় ১০দিন ধরে বাজালিয়া ইউনিয়নের শঙ্খ তীরবর্তী বেয়ান বাজারের (সকালের বাজার) জেলে পাড়া এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, উপজেলার পুরানগড় ও বাজালিয়া হচ্ছে উপজেলা সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙ্গন কবলিত ২টি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নবাসীর মধ্যে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেকেই গৃহহীন হয়ে বাপ-দাদার বসত-ভিটে ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। গৃহহীন ও ভাঙ্গনের মুখোমুখিরা দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙ্গনরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সফলতার মুখ দেখেনি। বরং নদী তীরবর্তীদের দুর্ভোগ ও দুদর্শা থেকে গেছে কয়েক যুগ ধরে। বিগত ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের দু:খ-দুদর্শা লাগবে এগিয়ে আসেন আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী। উদ্যোগ নেন ভাঙ্গন রোধে। তদবীর করে শঙ্খ নদী ভাঙ্গন এলাকা চন্দনাইশের বরকল থেকে ধোপাছড়ি পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বরাদ্দ আনেন ২২০ কোটি টাকা। উল্লিখিত এলাকাগুলোর মধ্যে কয়েকটি স্থানে ব্লক বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং চলমান রয়েছে কিছু অংশের কাজ। এর মধ্যে সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের বেয়ান বাজারের সাথে লাগোয়া শঙ্খতীরবর্তী জেলে পাড়া হচ্ছে নদী ভাঙ্গন কবলিত একটি এলাকা। এ স্থানটিতে চলছে নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্লক বসানোর কাজ। অথচ ওই স্থান থেকে শঙ্খ নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজ মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প স্থাপনে জায়গা ভরাটের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত। ফলে অসহায় ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকে যাচ্ছে আগের মতই। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনরোধে সাংসদ নজরুলের প্রচেষ্টাও অনেকটা হয়ে যাচ্ছে ভন্ডুল।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাজালিয়ার বেয়ান বাজারের সাথে লাগোয়া জেলে পাড়ার উত্তর পার্শ্বে রয়েছে শঙ্খ নদী। শঙ্খ পাড়ে এ জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস স্বাধীনতার আগে থেকে। ওই স্থান থেকেই শঙ্খ নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রায় আড়াইশ মিটার দক্ষিণে চেয়ারম্যান তাপসের বাড়ির পার্শ্ববর্তী বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে নির্মিতব্য পেট্রোল পাম্পের জায়গায়। রাত-দিন মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ব্লক বসালেও কা বেশি দিন ঠিকবে না বলে সচেতন মহল ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে জেলে পাড়ার সত্তরোর্ধ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা মহিলা ও পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে বলেন, এম.পি নজরুল সাহেব অনেক চেষ্টা করে সরকার থেকে বরাদ্ধ এনে ব্লক বসানোর কাজ করছে। অথচ চেয়ারম্যান তাপস এ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করলে ব্লক বসানোর চেয়ে না বসানোই অনেক ভালো হবে। কারণ আবারও ভেঙ্গে যাবে নদীর পাড়। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, চেয়ারম্যানের কাজে বাঁধা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এম.পি সাহেবের সহযোগিতা কামনা করছি।
বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন যেই করুক না কেন, তা মারাত্বক অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত বলেন, সামান্য একটি জায়গা ভরাটের জন্য সামান্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর ওই বালু দিয়েতো আমি ব্যবসা করছি না।
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বাজালিয়ার চেয়ারম্যান যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন, এ রকম বিষয় আমি জানিনা। কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, শঙ্খ নদী বাজালিয়া এলাকা থেকে চেয়ারম্যান তাপস যে বালু উত্তোলন করছে এ রকম অভিযোগ আমাকে কেউ করেনি। সূত্র দৈনিক পূূূূবর্কোণ

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতকানিয়ার বাাজালিয়ায় সাঙ্গু নদি থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে রক্ষা বাধ

প্রকাশিত: ১১:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০১৯

সাতকানিয়ার বাজালিয়ায় শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকে গেলো যুগের পর যুগ। ভাঙন রোধে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানোর কাজ করছে। তবে স্থানীয় এক চেয়ারম্যান নিজ মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প স্থাপনের জন্য প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে একদিকে যেমন ভেস্তে যেতে বসেছে সাংসদের নেয়া মহতি উদ্যোগ, তেমনি ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকেই যাচ্ছে। বিগত প্রায় ১০দিন ধরে বাজালিয়া ইউনিয়নের শঙ্খ তীরবর্তী বেয়ান বাজারের (সকালের বাজার) জেলে পাড়া এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, উপজেলার পুরানগড় ও বাজালিয়া হচ্ছে উপজেলা সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙ্গন কবলিত ২টি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নবাসীর মধ্যে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেকেই গৃহহীন হয়ে বাপ-দাদার বসত-ভিটে ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। গৃহহীন ও ভাঙ্গনের মুখোমুখিরা দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙ্গনরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সফলতার মুখ দেখেনি। বরং নদী তীরবর্তীদের দুর্ভোগ ও দুদর্শা থেকে গেছে কয়েক যুগ ধরে। বিগত ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের দু:খ-দুদর্শা লাগবে এগিয়ে আসেন আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী। উদ্যোগ নেন ভাঙ্গন রোধে। তদবীর করে শঙ্খ নদী ভাঙ্গন এলাকা চন্দনাইশের বরকল থেকে ধোপাছড়ি পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বরাদ্দ আনেন ২২০ কোটি টাকা। উল্লিখিত এলাকাগুলোর মধ্যে কয়েকটি স্থানে ব্লক বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং চলমান রয়েছে কিছু অংশের কাজ। এর মধ্যে সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের বেয়ান বাজারের সাথে লাগোয়া শঙ্খতীরবর্তী জেলে পাড়া হচ্ছে নদী ভাঙ্গন কবলিত একটি এলাকা। এ স্থানটিতে চলছে নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্লক বসানোর কাজ। অথচ ওই স্থান থেকে শঙ্খ নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজ মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্প স্থাপনে জায়গা ভরাটের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত। ফলে অসহায় ভাঙ্গন কবলিত জেলে সম্প্রদায়ের দু:খ থেকে যাচ্ছে আগের মতই। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনরোধে সাংসদ নজরুলের প্রচেষ্টাও অনেকটা হয়ে যাচ্ছে ভন্ডুল।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাজালিয়ার বেয়ান বাজারের সাথে লাগোয়া জেলে পাড়ার উত্তর পার্শ্বে রয়েছে শঙ্খ নদী। শঙ্খ পাড়ে এ জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস স্বাধীনতার আগে থেকে। ওই স্থান থেকেই শঙ্খ নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রায় আড়াইশ মিটার দক্ষিণে চেয়ারম্যান তাপসের বাড়ির পার্শ্ববর্তী বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে নির্মিতব্য পেট্রোল পাম্পের জায়গায়। রাত-দিন মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ব্লক বসালেও কা বেশি দিন ঠিকবে না বলে সচেতন মহল ধারণা করছেন।
এ ব্যাপারে জেলে পাড়ার সত্তরোর্ধ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা মহিলা ও পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে বলেন, এম.পি নজরুল সাহেব অনেক চেষ্টা করে সরকার থেকে বরাদ্ধ এনে ব্লক বসানোর কাজ করছে। অথচ চেয়ারম্যান তাপস এ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করলে ব্লক বসানোর চেয়ে না বসানোই অনেক ভালো হবে। কারণ আবারও ভেঙ্গে যাবে নদীর পাড়। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, চেয়ারম্যানের কাজে বাঁধা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এম.পি সাহেবের সহযোগিতা কামনা করছি।
বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন যেই করুক না কেন, তা মারাত্বক অন্যায় এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত বলেন, সামান্য একটি জায়গা ভরাটের জন্য সামান্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর ওই বালু দিয়েতো আমি ব্যবসা করছি না।
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বাজালিয়ার চেয়ারম্যান যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন, এ রকম বিষয় আমি জানিনা। কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, শঙ্খ নদী বাজালিয়া এলাকা থেকে চেয়ারম্যান তাপস যে বালু উত্তোলন করছে এ রকম অভিযোগ আমাকে কেউ করেনি। সূত্র দৈনিক পূূূূবর্কোণ