
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে উদ্বোধনের কয়েক দিনের মাথায় বিতর্কে জড়িয়েছে বিনোদনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “গেইম পার্ক”। ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ফেস্টুন টানানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাঙালির আত্মত্যাগের প্রতীক শহীদ মিনারকে বাণিজ্যিক প্রচারণার কাজে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ৮ মে কেরানীহাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে “গেইম পার্ক”। উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় থানার সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারে তাদের একটি বড় আকারের রঙিন ফেস্টুন ঝুলতে দেখা যায়। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ছবিতে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল কাঠামোর সামনের অংশজুড়ে ফেস্টুনটি টানানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রচারণামূলক বার্তা ও যোগাযোগের তথ্য উল্লেখ ছিল। ফেস্টুনের কারণে শহীদ মিনারের সৌন্দর্য ও প্রতীকী অংশ আংশিকভাবে আড়াল হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি বাঙালির জাতীয় চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতীক। সেখানে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন টানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রচারণার জন্য শহীদ মিনার ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। শুরুতেই তারা নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।”
একজন শিক্ষক বলেন, “শহীদ মিনার আমাদের আবেগের জায়গা। এখানে মানুষ ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সেখানে ফেস্টুন লাগানো জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি অসম্মান।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে ‘অসচেতনতা’ ও ‘দায়িত্বহীনতার’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষার্থী জামশেদুর রহমান বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে শিখেছি শহীদ মিনারে সম্মান দেখাতে হয়। সেখানে যদি ব্যবসার ফেস্টুন ঝুলতে থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্ম কী শিক্ষা পাবে?”
এদিকে বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারে একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ফেস্টুন টানানোর বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি ডিউটি অফিসারকে পাঠিয়ে সেটি অপসারণ করেছি। শহীদ মিনারে বাণিজ্যিক ফেস্টুন টাঙানো খুবই গর্হিত কাজ।”
স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে যেন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানো না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
