
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় পুষ্টি বাগানের গুরুত্ব নিয়ে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মহাজন পাড়ায় সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলা হলে একদিকে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সঠিক পরিচর্যা, জৈব সার ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করলে রোগবালাই কমে যাবে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার বিত্তম সরকার, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শুম্ভু নাথ দেব এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা—রাজেশ বড়ুয়া, মোরশেদুল আলম ও প্রকাশ দাশ।
বৈঠকে উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শুম্ভু নাথ দেব উপস্থিত কৃষক-কৃষাণিদের বিভিন্ন সবজির পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পালংশাকে প্রচুর আয়রন থাকায় এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক এবং গাজরে বিদ্যমান ভিটামিন-এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষিবিদ মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এতে বসতবাড়ির আঙিনা কিংবা নিকটবর্তী পতিত জমি ব্যবহার করে স্বল্প খরচ ও অল্প শ্রমে শাকসবজি উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হবে। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো হলে তারা পারিবারিক পর্যায়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।
বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিদের মাঝে পুষ্টি প্লেট, লিফলেট, পুষ্টি কার্ড, বিভিন্ন সবজির বীজ ও ফলজ চারা বিতরণ করা হয়।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 



















