ছাত্রদল-শিবির ও চুরি মামলার আসামীরাও নেতৃত্বে:সমালোচনার ঝড়
শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা.নেট
দীর্ঘ অপেক্ষার পর চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগ সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের ১শ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করলেও তা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে তৃণমুলে। শুধু পদ বঞ্চিতরা নয়, পদ পাওয়া নেতারাও এ কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিল সমাবেশ করেছে। এছাড়া রয়েছে ছাত্রদল ও শিবির নেতাদের পদায়ন এবং মোটর সাইকেল চুরি মামলার আসামীকেও কমিটিতে রাখার অভিযোগ। গত ২ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের কমিটি অনুমোধন দেন। কমিটি অনুমোধনের পর বিজয় মিছিল না হলেও হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনাও। তবে ঘোষিত কমিটির বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান বলেন, সাতকানিয়া দীর্ঘ ১৮ বছর কমিটি না থাকার কারনে নেতৃত্বেও জট সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ জট নিরশনের চেষ্টা করছি। সকলকে খুশি করার জন্যই মূলত আমরা কমিটির আকার বাড়িয়েছি। কমিটি ঘোষনার পর দায়িত্বে আসা বেশ কয়েক জনের বিষয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা প্রাপ্তি সাপেক্ষ তাদেরকে বাদ দিয়ে দিব। সূত্রে প্রকাশ,গত বছর আব্দুল মান্নানকে সভাপতি ও তোফজ্জল হোসেন চৌধুরী তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে সংক্ষিপ্ত কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিল। পরে গত মার্চ উপরোক্ত দুইজনকে ঠিক রেখে মাসুদ বিন সায়েদ, ওমর ফারুক,রহমত উল্লাহ বাবলু, মাহফুজুর রহমান সজল,এহসানুল হক, ফরহাদুল ইসলাম জিসান, রকিম উদ্দিন রাকিব, ইয়াছিন আরাফাত, ইরফান উদ্দিন তালুকদার, মেজবাহ উদ্দিন জিসান, রিয়াদ চৌধুরী, তারেক আজিজ সোহান, এস কে শফিকুর রহমান শামীম, সাইফুর উদ্দীন, আতাউল্লাহ মোহাম্মদ রাকিব, রাশেদুল ইসলাম ইমন, এম তৌহিদুল ইসলাম, জায়েদ খান জয়, সাজ্জাদ হোসেন সিকদার, সাহাব উদ্দিন খোকন, ইয়াছিন আবরার, মোহাম্মদ এনাম, মিজবাহ উদ্দীন আবিদ, সাহাব উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন রনিকে সহ-সভাপতি, তোফাজ্জল হোসাইন চৌধুরী তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক, আমিনুল ইসলাম আমিন, ইমরান চৌধুরী, তৌফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাহেদ,রিদুয়ানুল ইসলাম, মাইন উদ্দীন হাছান ফাহিমকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জাহাঙ্গীর আলম বাবু, লুৎফর রহমান মাসুম, খোরশেদ আলম, সাজিল আনোয়ার, মোঃ আরিফ, মোঃ মিনহাজুল আবেদীনকে সাংগঠনিক সম্পাদক। রাসেল উদ্দীন খোকনকে প্রচার সম্পাদক, হামিদুর রহমানকে উপ-প্রচার সম্পাদক, মাইন উদ্দীন হাছানকে দপ্তর সম্পাদক, ছোমায়েত বিন শাকুরকে উপ-দপ্তর সম্পাদক , সাইফুল ইসলামকে গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, মো. আসিফকে উপ- গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, জোবাইরুল হক জিয়ানকে শিক্ষা পাঠচক্র সম্পাদক , আহসান উদ্দীন মো. শাওনকে উপ-শিক্ষা পাঠচক্র সম্পাদক,জহির উদ্দিন লিটনকে সাংস্কৃতিক সম্পাদক, শামীমা আক্তার চুমকিকে উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক,মো. ফেরদৌসকে সমাজসেবা সম্পাদক ,জাবেদুল ইসলামকে উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, মোরশেদ আলমকে ক্রীড়া সম্পাদক,নুর হোসেনকে উপ-ক্রীড়া সম্পাদক, মো.আরাফাত হোসেনকে পাঠাগার সম্পাদক, তৌহিদুল ইসলাম জামিকে উপ-পাঠাগার সম্পাদক, আরফাতুল ইসলাম সাজ্জাদকে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, জাফরিন সুলতানা এমিকে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক , সাদিয়া সুলতানা অনন্যাকে উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, মো. রহিমকে অর্থ সম্পাদক , উপ অর্থ সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে উপ-অর্থ সম্পাদক,জিহাদুল ইসলাম জাহেদকে আইন সম্পাদক,আসিফ মোহাম্মদ সোহানকে উপ-আইন সম্পাদক,মাইন উদ্দীন হাছানকে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, মিরাজ ইসলামকে উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।মো. বেলাল উদ্দীনকে স্কুল বিষয়ক সম্পাদক,মো. তারেককে উপ স্কুল বিষয়ক সম্পাদক,জীবন পালকে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক,সাফকাত হোসেন সাহিলকে উপ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক,রাইসুল ইসলাম সোহেলকে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক,তোফায়েল বিন মনিরকে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক,মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, তৌফিকুল ইসলাম তোফাকে উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক,মোহাম্মদ আহসান উদ্দীনকে ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক,এ কে এম মুনতাসিরকে উপ-ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক,সহিফা সুলতানা এমিকে সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক,এস এম তৌহিদুল ইসলামকে উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক,সাব্বির হোসাইন আলমগীরকে আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম শান্তকে উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক, আ.ন.ম সাদ্দাম হোসাইনকে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ,মো. জাহাঙ্গীর আলমকে উপ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ,ফরহাদুল ইসলাম ফাহাদকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক,নওয়াজ শরীফ রাফসানকে উপ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক, রিয়াজ উদ্দিন, মির্জা সোহেল, জাহিদ হাসান শুভ, মো. ফরহাদ, প্রমিস চৌধুরী, মেজাম্মেল সানি, আরমিন তুহিন, মো. ফারক, সনজিৎ কর, জাশেদুল ইসলাম, আবদুর রহিম ভুট্টা, আইয়ুব আলী, হেবায়েত চৌধুরী, জোবায়ের হোসাইন, রিয়াজ সিকদার, আবদুল্লাহ আল নোমান, ইয়াছিন আরফাত জনি, রিদুয়ানুল হক, মো. বোরহান, আসিফ মোস্তফা, ইয়াছিন আরফাত ইশান, মো. মোরশেদুল আলম, শহিদুল ইসলাম শহিদ, ইফতিয়ার আলম আবিরকে সহ-সম্পাদক ছাড়াও রাশেদুল ইসলাম রাশু, সিহাব উদ্দীন, আবু হুরাইরা আকিব, আবদুল আজিজ আরিফ, ইমতিয়াজ হোসেন জাবেদ, মো. পারভেজ, তারেক উদ্দিন আকাশ, হানিফুল ইসলাম রুবেল, রুবেল চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম রহিম, ইলিযাছ সানি, সাজ্জাদুল ইসলাম আকিব, শোভন বড়ুয়া, মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ, মাইন উদ্দীন হাছান, আবিদুল ইসলাম জিহাদ, সুকান্ত দাশ, মোঃ শফিকুল ইসলাম, আবদুলাহ আকিব, মো. মোজাম্মেল হক, মো. সুমন, আবু মোহাম্মদ ফয়সাল, আমজাদ হোসেন, কামরুল হাসান ফয়সাল, মোস্তাফিজুর রহমান শাওন ও মো. ইমনকে সদস্য করে ১৩৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোধন দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান ও মো. আবু তাহের। কমিটির ঘোষনার পরদিনই কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবীতে সাতকানিয়ার ব্যবসায়ীক প্রানকন্দ্রে কেরানীহাটে লাঠি মিছিল করে কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ পাওয়া তারেক আজিজ সোহানের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এসময় তারা উপজেলার কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী তুহিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান, ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এদিকে ঘোষিত কমিটিতে সহ-সম্পাদকের তালিকায় কাঞ্চনার বাসিন্দা রিয়াজুল হকের নাম দেখে বিষ্মিত হয়েছে কাঞ্চনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ। কাঞ্চনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক মাসুদ জাহাঙ্গীর, যুগ্ন আহবায়ক রমজান আলী, আতাউর রহমান খোকন ও হাসান মুরাদ লিটন যৌথ সাক্ষর করে সাঈদীর রায়ের পর থেকে সহিংস ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া রিয়াজুল হককে অপসারণ করার দাবী জানিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পত্র দিয়েছে। ঘোষিত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ কমিটিতে অশিক্ষিত, লম্পট, দ্রæত বিচার আইনের মামলায় পলাতক আসামী, মোটর সাইকেল চোরকে নেতা বানানো হয়েছে। এটি কোন অবস্থাতে কাম্য নয়। সাতকানিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী তুহিন বলেন, আমি আর সভাপতি আব্দুল মান্নান মিলে গত নির্বাচনে যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেছে তাদের মূল্যায়ন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি, মূল সংগঠনের নেতাদের সুপারিশকৃতদের স্থান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখা যাচ্ছে তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান বলেন, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন, স্থানীয়দের সুপারিশকৃতদের নিয়েই কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 
























