
সারাদেশে ২০২৫ সালের এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১০টি মাদ্রাসা ও ৮টি কলেজ থেকে মোট ২৮৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৬৯ জন। তবে কলেজকে পেছনে ফেলে এবারও মাদ্রাসাগুলিই দেখিয়েছে অসাধারণ সাফল্য।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মাদ্রাসাগুলোর সার্বিক পাশের হার ৯২.১৯ শতাংশ, যা কলেজগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি এ বছর মাদ্রাসা পর্যায়ে ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে।
সাতকানিয়া মাহমুদুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় পাশের হার ৯৪.৩৪ শতাংশ, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৪ জন। সৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির আলিম মাদ্রাসায় পাশের হার ৯৩.৩৩ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
গারাঙ্গিয়া ইসলামিয়া রাব্বানিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় পাশের হার ৯৮.২৪ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। কেরানীহাট জামেউল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় পাশের হার ৯০.০০ শতাংশ।
রসুলাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় পাশের হার ৭৮.১২ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। ছদাহা মোহাম্মদিয়া খায়রিয়া আলিম মাদ্রাসায় পাশের হার ৮৮.২৪ শতাংশ।
গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় পাশের হার ৯৫.৭৪ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। বাজালিয়া হেদায়েতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসায় পাশের হার ৯৬.৯৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
কাঞ্চনা আনওয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ৮৫.১৫ শতাংশ। এবং বায়তুশ শরফ আখতারিয়া আলিম মাদ্রাসায় পাশের হার ৯১.৬৭%। এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
উপজেলার সব মাদ্রাসা মিলে মোট ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০৭ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৯২.১৯ শতাংশ এবং মোট ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে সামগ্রিক ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ৮টি কলেজ থেকে মোট ২৪৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১৬২ জন পাস করেছে, পাশের হার মাত্র ৪৬.৫৪ শতাংশ। পাশাপাশি ৪৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে।
চিব্বাড়ী আব্দুল মোতালেব কলেজের পাশের হার ৮০.৩৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। আল হেলাল আদর্শ ডিগ্রি কলেজের পাশের হার ৫৪.২২ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। সাতকানিয়া সরকারি কলেজের পাশের হার ৫২.৭৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে।
উত্তর সাতকানিয়া জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজের পাশের হার ২০.৭২ শতাংশ, সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজের পাশের হার ৩১.২৯ শতাংশ, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজের পাশের হার ৩৩.৪৫ শতাংশ; এই প্রতিষ্ঠানের ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। মির্জাখীল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের হার ৩০.০০ শতাংশ। বারদোনা শাহ মজিদিয়া মৌলানা আব্দুলবারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পাশের হার ১৬.৬৭ শতাংশ।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, এ বছর আলিম পরীক্ষায় সাতকানিয়ার মাদ্রাসাগুলো যে সফলতা অর্জন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা—সব মিলিয়ে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে, সেটা সাধারণ শিক্ষা হোক বা মাদ্রাসা শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কলেজগুলোও যদি শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ক্লাসের মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেয়, তাহলে উপজেলায় সার্বিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

























