ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদে চট্টগ্রামের কথা, বইয়ে শাহজাহান চৌধুরীর কণ্ঠ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সংসদে দেওয়া বক্তব্য শুধু সময়ের প্রয়োজনেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দলিল—এমন মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম এ মালেক।

তিনি বলেন, অতীতে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত বহু নেতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও নির্বাচনের পর তাঁদের চট্টগ্রামে খুব একটা পাওয়া যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেন নিজেকে সর্বদা চট্টগ্রামের নেতা হিসেবেই গড়ে তোলেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবেন ও কাজ করেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রদত্ত আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর ভাষণ নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংকলন ‘সংসদীয় ভাষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ মালেক বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী একজন আদর্শবাদী ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ। অতীতেও তিনি সংসদে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের দাবিগুলো আরও শক্তভাবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন—এমন প্রত্যাশা সবার।
তিনি বলেন, সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য আজ বই আকারে প্রকাশিত হওয়ায় আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে তিনি সংসদে কীভাবে ও কোন বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। জ্ঞানের কোনো শেষ নেই—যত বেশি পড়া যায়, তত বেশি জানা যায়। একটি ভালো বই একজন বন্ধুর মতো, আর একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।
এম এ মালেক আরও বলেন, ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেকে যদি নিজেকে সৎ, দায়িত্ববান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সম্মিলিতভাবে একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তর পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, তিনি আজীবন চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গেই থাকতে চান। চট্টগ্রামের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বাইরে কোথাও থাকবেন না এবং চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, অতীতে সংসদে তিনি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়ন নয়, বরং চট্টগ্রামের বড় বড় সমস্যা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দায়িত্বশীলভাবে কথা বলেছেন, যা এই বইয়ে স্থান পেয়েছে। আগামী দিনেও চট্টগ্রাম ও দেশের স্বার্থে সংসদে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেভাবে বাংলাদেশ ও নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি পায়ে হেঁটে এলাকায় এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেন—এ ধরনের জনবান্ধব নেতৃত্ব থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য শিক্ষণীয় ও সময়োপযোগী।
ভিন্নমত থাকলেও চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, একসময় চট্টগ্রামে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না, এখন সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফারুক হোসেন, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, হৃদয় তরুয়া, শহীদ তানভিরসহ সারাদেশের দুই হাজার শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত না হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তাফহীম পাবলিকেশনের সত্ত্বাধিকারী মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোস্তফা নঈম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম, এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান আবুল হাসনাতসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সংসদে চট্টগ্রামের কথা, বইয়ে শাহজাহান চৌধুরীর কণ্ঠ

প্রকাশিত: ০৬:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সংসদে দেওয়া বক্তব্য শুধু সময়ের প্রয়োজনেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দলিল—এমন মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম এ মালেক।

তিনি বলেন, অতীতে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত বহু নেতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও নির্বাচনের পর তাঁদের চট্টগ্রামে খুব একটা পাওয়া যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেন নিজেকে সর্বদা চট্টগ্রামের নেতা হিসেবেই গড়ে তোলেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবেন ও কাজ করেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রদত্ত আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর ভাষণ নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংকলন ‘সংসদীয় ভাষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ মালেক বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী একজন আদর্শবাদী ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ। অতীতেও তিনি সংসদে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের দাবিগুলো আরও শক্তভাবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন—এমন প্রত্যাশা সবার।
তিনি বলেন, সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য আজ বই আকারে প্রকাশিত হওয়ায় আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে তিনি সংসদে কীভাবে ও কোন বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। জ্ঞানের কোনো শেষ নেই—যত বেশি পড়া যায়, তত বেশি জানা যায়। একটি ভালো বই একজন বন্ধুর মতো, আর একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।
এম এ মালেক আরও বলেন, ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেকে যদি নিজেকে সৎ, দায়িত্ববান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সম্মিলিতভাবে একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তর পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, তিনি আজীবন চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গেই থাকতে চান। চট্টগ্রামের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বাইরে কোথাও থাকবেন না এবং চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, অতীতে সংসদে তিনি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়ন নয়, বরং চট্টগ্রামের বড় বড় সমস্যা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দায়িত্বশীলভাবে কথা বলেছেন, যা এই বইয়ে স্থান পেয়েছে। আগামী দিনেও চট্টগ্রাম ও দেশের স্বার্থে সংসদে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেভাবে বাংলাদেশ ও নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি পায়ে হেঁটে এলাকায় এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন এবং উন্নয়নের উদ্যোগ নেন—এ ধরনের জনবান্ধব নেতৃত্ব থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য শিক্ষণীয় ও সময়োপযোগী।
ভিন্নমত থাকলেও চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, একসময় চট্টগ্রামে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না, এখন সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফারুক হোসেন, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, হৃদয় তরুয়া, শহীদ তানভিরসহ সারাদেশের দুই হাজার শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত না হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তাফহীম পাবলিকেশনের সত্ত্বাধিকারী মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোস্তফা নঈম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম, এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান আবুল হাসনাতসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।