
ঝিনাইগাতী উপজেলায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াত-এর সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৫০) মারা গেছেন। তিনি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত হন এবং রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে মৃত্যুবরণ করেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে আয়োজিত মঞ্চে এ ঘটনাটি ঘটে যখন ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সেখানে বসার স্থান নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সামনাসামনি বসার আসন দখলকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি চেয়ার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের মতো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। হামলায় উভয় পক্ষ মিলিয়ে অন্তত ৩০-৫০ জন আহত হয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপ-নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা বক্তব্য রাখতে আসলে ঘটনাটি বেগতিক রূপ নেয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ চিকিৎসকরা রেজাউল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
জামায়াত-এর শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, “ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে হামলায় আমাদের নেতা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা গেছেন।”
সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা জামায়াত ও বিএনপি উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে, এবং স্থানীয় নেতারা কে কার কর্মীরা হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কেও ভিন্ন ভিন্ন দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আহতদের মধ্যে অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেশ বাংলা অনলাইন 



















