
রায়হান সিকদারঃ
শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দুর্গাপূজাকে ঘিরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে প্রতিমা নির্মাণে কাজ শেষ।
দেবী দুর্গা মা আসছেন জগতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এমনটাই বিশ্বাস করেন। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তবৃন্দরা।
প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে এ দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয় মহালয়ার মাধ্যমে। ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমী, ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
এবার লোহাগাড়ায় উৎসব মূখর পরিবেশে ১১২টি পূজো মন্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে জানা গেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মৃণাল কান্তি মিলন মেম্বারের নেতৃত্বে পূজামণ্ডপ পরিক্রমায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
মণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের সাথে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা এবং উৎসবের সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত সম্পর্কে অবগত হন।
এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্ঠা যথাক্রমে শিক্ষক নেতা সুনীল কুমার চৌধুরী, সুভাষ কান্তি নাথ, শিবু চৌধুরী, প্রদীপ কান্তি দাশ, সুজিত পাল, অসীম দাশ,প্রসেংজিৎ পাল, অরুন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলু শংকর নাথ,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য পলাশ দাশ, অর্থ সম্পাদক অনুপ কুমার গুপ্ত,
মন্দির ভিত্তিক গণশিক্ষা কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ সুমন মজুমদার হিরোসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
লোহাগাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মৃণাল কান্তি মিলন মেম্বার বলেন, এবারে শারদীয় দুর্গাপূজা ১১২টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে উৎবসমূখর পরিবেশে। প্রত্যেক পুজা মন্ডপে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আমাদেরকে জোরালোভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিসি টিভি ক্যামেরা থাকলে দুষ্কৃতকারীরা ভয়ে ভীতের মধ্যে থাকে, পূজা পরিচালনায় কোথাও বিঘ্ন ঘটলে তা সহজে ধরা পড়বে। ভোগ বিতরণ, আরতী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লোহাগাড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আয়োজকরা পূজা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেই সাথে প্রতিটি ইউনিয়নে বিট অফিসার ও পুলিশ নিয়ে টহলটিম মাঠে কাজ করবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবে এবং থানা প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পূজোর আগেই প্রতিটি পূজামন্ডপের সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা করা হয়েছে।প্রতিটি পূজা মন্ডপে আর্থিকভাবে অনুদানও প্রদান করা হয়। মন্ডপে সর্বক্ষণ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার,গ্রাম পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করবে।প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















