ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শান্তিরহাটের ফিরেছে শান্তি, নতুন করে চেপে বসেছে এখন পদুয়া বাজারে সব অশান্তি!

রায়হান সিকদারঃ

এক সময় পটিয়ার শান্তিরহাটে যানেরজটে অতিষ্ঠ ছিলো যাত্রীরা। তাই দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষেরা শান্তিরহাটকে অশান্তি হিসেবে দেখতো। কারণ এস্থানে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হতো। তবে এখন সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণ, ডিভাইডার এবং ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ফলে শান্তিরহাটে শান্তি ফিরেছে। তবে শান্তিরহাটের সেই অশান্তি এখন চেপে বসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রবেশদ্বার পদুয়া তেওয়ারি হাট বাজারে। সারাক্ষণ যানজটে নাকাল অবস্থা থাকে এ বাজারে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হওয়ায় যানজটকে কেন্দ্র করে সময় অপচয় হচ্ছে দুরদুরান্তের যাত্রীদের।

লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পদুয়া বাজারের ব্যবসায়ী এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মহাসড়ক এবং দুপাশে অবৈধ যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা। বিভিন্ন দোকানের সামনে মালামাল রেখে ফুটপাত বেদখল। সড়কের পাশে ব্যক্তিগত নির্মাণসামগ্রী রাখা যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া সড়কের পাশে অবৈধ

স্থানীয় নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রতিদিন যানজটকে কেন্দ্র করে সময় অপচয় হচ্ছে দুরদুরান্তের যাত্রীদের। এ বাজারে একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্বপালন করলে যানজট কিছুটা কমবে।

জানে আলম বলেন, লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত আসা যাওয়া করি কিন্তু পদুয়ার যানজটটি লক্ষণীয়। জায়গায় জায়গায় এমন যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়ে যার প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে।

পদুয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাসেম বলেন, মহাসড়কের উভয় পাশে সরকারি জায়গা উপর অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে অবৈধ দখল করার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সিএনজি স্টেশনের দখলে রয়েছে। মহাসড়কে সিএনজি,ঈগল গাড়িগুলো যত্রতত্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, পদুয়া ও আমিরাবাদ স্টেশনের সড়কের দু পাশে প্রশস্থ করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মামলা থাকার কারণে তারা কাজটি শুরু করতে পারছেনা। তিনি আরও বলেন, আমরা সড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমাদের সড়ক বিভাগে একজন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে মিটিংও করেছি। দ্রুত সময়ে পদুয়া বাজারে উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পদুয়া বাজারকে দখলমুক্ত করা হবে।

লোহাগাড়া ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) ইন্সপেক্টর হাসানুজ্জামান হায়দার বলেন, লোকাল বাসগুলো দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী উঠানামা করা পদুয়া বাজারে যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া সিএনজিতো যানজট সৃষ্টি করেছে। আমরা সিএনজিসহ অন্যান্য বাসগুলোকে প্রতিদিন মামলা দিয়ে যাচ্ছি। এদেরকে মামলা দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ট্রাফিক সদস্য দেয়া যাচ্ছে না। জনবল চাহিদা পাঠিয়েছি, আশা করছি, অচিরেই সমস্যাটি সমাধান হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যেহেতু যোগদান করেছি বেশিদিন হয়নি। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। দ্রুতসময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

শান্তিরহাটের ফিরেছে শান্তি, নতুন করে চেপে বসেছে এখন পদুয়া বাজারে সব অশান্তি!

প্রকাশিত: ০৫:৩৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

এক সময় পটিয়ার শান্তিরহাটে যানেরজটে অতিষ্ঠ ছিলো যাত্রীরা। তাই দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষেরা শান্তিরহাটকে অশান্তি হিসেবে দেখতো। কারণ এস্থানে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হতো। তবে এখন সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণ, ডিভাইডার এবং ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ফলে শান্তিরহাটে শান্তি ফিরেছে। তবে শান্তিরহাটের সেই অশান্তি এখন চেপে বসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রবেশদ্বার পদুয়া তেওয়ারি হাট বাজারে। সারাক্ষণ যানজটে নাকাল অবস্থা থাকে এ বাজারে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হওয়ায় যানজটকে কেন্দ্র করে সময় অপচয় হচ্ছে দুরদুরান্তের যাত্রীদের।

লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পদুয়া বাজারের ব্যবসায়ী এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মহাসড়ক এবং দুপাশে অবৈধ যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা। বিভিন্ন দোকানের সামনে মালামাল রেখে ফুটপাত বেদখল। সড়কের পাশে ব্যক্তিগত নির্মাণসামগ্রী রাখা যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া সড়কের পাশে অবৈধ

স্থানীয় নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রতিদিন যানজটকে কেন্দ্র করে সময় অপচয় হচ্ছে দুরদুরান্তের যাত্রীদের। এ বাজারে একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্বপালন করলে যানজট কিছুটা কমবে।

জানে আলম বলেন, লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত আসা যাওয়া করি কিন্তু পদুয়ার যানজটটি লক্ষণীয়। জায়গায় জায়গায় এমন যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়ে যার প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে।

পদুয়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাসেম বলেন, মহাসড়কের উভয় পাশে সরকারি জায়গা উপর অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে অবৈধ দখল করার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সিএনজি স্টেশনের দখলে রয়েছে। মহাসড়কে সিএনজি,ঈগল গাড়িগুলো যত্রতত্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, পদুয়া ও আমিরাবাদ স্টেশনের সড়কের দু পাশে প্রশস্থ করার জন্য টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মামলা থাকার কারণে তারা কাজটি শুরু করতে পারছেনা। তিনি আরও বলেন, আমরা সড়কের দু পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমাদের সড়ক বিভাগে একজন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে মিটিংও করেছি। দ্রুত সময়ে পদুয়া বাজারে উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পদুয়া বাজারকে দখলমুক্ত করা হবে।

লোহাগাড়া ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) ইন্সপেক্টর হাসানুজ্জামান হায়দার বলেন, লোকাল বাসগুলো দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী উঠানামা করা পদুয়া বাজারে যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া সিএনজিতো যানজট সৃষ্টি করেছে। আমরা সিএনজিসহ অন্যান্য বাসগুলোকে প্রতিদিন মামলা দিয়ে যাচ্ছি। এদেরকে মামলা দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ট্রাফিক সদস্য দেয়া যাচ্ছে না। জনবল চাহিদা পাঠিয়েছি, আশা করছি, অচিরেই সমস্যাটি সমাধান হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যেহেতু যোগদান করেছি বেশিদিন হয়নি। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। দ্রুতসময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।