
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা হেডকোয়াটার দরবেশ হাট ডিসি চরম্বা ইউপি(শাহপীর সড়ক) দরবেশ ডিসি সড়কে দিঘীর উত্তর কোণ এলাকা থেকে চরম্বা নয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও খানাখন্দে ভরে গেছে। ফলে নারী, শিশু, রোগীবাহী যানবাহনসহ প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। রাস্তাটির ভয়াবহ অবস্থার কারণে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সি মানুষ। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে থাকে পানি আর পানি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ২০১৭সালে এলজিইডি কর্তৃক এ সড়কটির মেরামতের কাজ শেষ করা হয়েছিল।এরপর থেকে প্রতি বছরের বর্ষা মৌসমে আসলে সড়কে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পর এসব খানাখন্দে পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। যানবাহনের ধীরগতির কারণে প্রায়ই সড়কটিতে দুর্ভোগে শিকার হতে হয়। বলতে গেলে সড়কের বিভিন্ন অংশে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়কটির পাশে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সুখছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ সুখছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা, উত্তর কলাউজান তরুনি সেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরম্বা এন ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জান মোহাম্মদ পাড়ার বাসিন্দা ইউসুফ সওদাগর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তার এমন অবস্থা যেকোনো গর্ভবতী মহিলা যদি এ রাস্তা দিয়ে যায়, তাহলে হাসপতালে না গিয়েই রাস্তায় মারা যাবেন।দ্রুত সংস্কার জরুরি।
চরম্বা এন.ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু মেম্বার বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ। সিএনজি করে ডাক্তার দেখাতে গেলে চরম কস্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি বাস্তবায়ন চাই।
সিএনজি চালক মোঃ কালু বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তায় সিএনজি চালাতে গিয়ে প্রায় নাটবল্টু খুলে পড়ে যায়। দিনে যা আয় করি মেরামতেই তা খরচ হয়ে যায়। আর যানজট তো প্রতিদিন লেগেই থাকে। ২০-২৫ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ৬০ মিনিট।
অটোরিক্সা চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কে খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েক দিন আগে যাত্রী নিয়ে গর্তের মধ্যে পড়ে আহত হয়েছি।
ভ্যান চালক বাচ্চু মিয়া বলেন, আমরা প্রতিদিন সড়ক দিয়ে স্কেরাপ জিনিস কিনে যাওয়ার পথে চরম কস্ট হয়ে যায়।
কলাউজান রাবার ড্যামের বাসিন্দা,অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন মনির আহমদ বলেন, সড়কটি দিয়ে বটতলী স্টেশনে যাতায়াত করলে খুব কস্ট হয়ে যায়,আমাদের চলাচলের জন্য দ্রুত সংস্কারের জরুরি বলে মনে করছি।
সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জাকিয়া আকতার বলেন, এ সড়ক দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। সড়কে অনেক অংশে ভাঙা থাকায় স্কুলে যেতে দেরি হয়। চলাচলে কাপড়-ছোটড় ভিজে যায়।
পথচারি কুলসুমা বেগম বলেন, রাস্তায় চলাচল করতে খুব বেশি কষ্ট হয়ে যায়। কোমরে-পায়ে ব্যথা পাই। রাস্তাটা নির্মাণ হলে কষ্ট লাঘব হবে।
চরম্বা মাস্টার হাটের দোকানদার জুনায়েদ হোসেন সওদাগর বলেন, সড়কটি বিগত সময়ে কাজ করার সময় যতেষ্ট গাফিলাতি ছিল, অনিয়ম ছিল, যার কারণে সড়কটি তে বড় বড় গর্ত সৃষ্ঠি হয়েছে।
সুখছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ বলেন, বাসা থেকে সিএনজি করে স্কুলে আসার সময় কোমর ব্যাথা হয়ে যায়। আমাদের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দ্রুত সময় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষ,শিক্ষার্থী ও যান চলাচলে অনেক উপকার হবে।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সৈয়দ হোসেন বলেন,সড়কটি দিয়ে আমরা প্রতিদিন উপজেলায় বিভিন্ন সভা, কাজে যাতায়াত করি।অনেক কস্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমরা সড়কটি দ্রুত সমাধান চাই।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) ইফরাত বিন মুনীর বলেন, সড়কটি ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
এলজিইডি’র (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) চট্টগ্রাম এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলী বলেন, সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কটি বিষয়ে অবগত আছি, অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এর সঙ্গে সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















