
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। জ্বর, শরীরে ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসছেন অনেকেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত ২১০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, অর্থাৎ তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ১৯৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন, যারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, লোহাগাড়ার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গুর পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৪৫৬ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৪২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে রশিদের পাড়ার এক ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আরও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কারও জ্বর, সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ না খেয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগী যদি প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের প্লাটিলেট হারিয়ে ফেলেন, তবে প্রয়োজনমতো রক্ত দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম শহরে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতে অনুরোধ করছি।”
ডা. ইকবাল বলেন, “ডেঙ্গু একটি ভাইরাল রোগ, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলদানি, টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে সেখানে মশা জন্মায়, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনসচেতনতা থাকলে ডেঙ্গু সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই সবাইকে নিজ দায়িত্বে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে।”
লোহাগাড়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লেও, স্বাস্থ্য বিভাগের যথাযথ পদক্ষেপ ও চিকিৎসা সেবা চলমান রয়েছে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই হোক ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। জনসাধারণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে—জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং মশার বিস্তার রোধে ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখুন।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















