
রায়হান সিকদারঃ
পাহাড়ি বন্যহাতির তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর কুলপাগলী গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের।গতকাল গভীর রাতে হাতির দল পাহাড় থেকে নেমে এসে তান্ডব চালায় ফসলি জমিতে। এতে তার লাউ ক্ষেত, মূলা ক্ষেত, লাল সিমসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে পিষিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এতে করে ফসল হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক আবদুল কাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোববার রাতে উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের কুলপাগলী রসিল্যাবিল এলাকায় একদল বন্যহাতি কৃষক আবদুল কাদেরের রুপনকৃত ফসলী জমিতে তাণ্ডব চালায়। এসময় তার রুপনকৃত লাউ ক্ষেত, মুলা ক্ষেত, লাল সিমসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি ক্ষেত খেয়ে ফেলে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে বিনষ্ট করে ফেলে।
ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষক আবদুল কাদের বলেন, তিনি রসিল্যাবিল এলাকায় প্রায় ১২শতক জায়গায় বিভিন্ন ধরণের সবজি ক্ষেত রুপন করে। সে সবজি গুলো বিক্রি করে তার সংসার চালায়। প্রতিদিন পাহারা দেওয়ার জন্য টং করে থাকি। কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতের কারণে রাত্রে পাহারা দেওয়া হয়নি। খাবারের সন্ধানে আমার রোপিত ক্ষেতে চলে আসে। গতকাল রাতে হাতির পাল আমার রোপিত ফসলের ক্ষেত খেয়ে ও মাড়িয়ে সাবাড় করে দিয়েছে। আমার লাউ চাষ লণ্ডভন্ড করে, লাউ গুলো খেয়ে ফেলে, মূলা ক্ষেত ও সিম ক্ষেতসহ বিভিন্ন ধরণের সবজিগুলো খেয়ে ফেলে, পা দিয়ে মাড়িয়ে বিনষ্ট করে ফেলে। এতে আমার প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি ফসল ও চাষাবাদই আমার প্রধান আয়ের পথ। সেটিও এখন হুমকিতে পড়েছি।বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান এ কৃষক।
বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে আশপাশের এলাকার কৃষকরাও হাতি আতঙ্কে রয়েছেন। বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় সরকারিভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা।
এ ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রবিউল আউয়াল বলেন, বন্যহাতির তাণ্ডবে কৃষক আবদুল কাদেরের সবজি ক্ষেত নষ্ট করে ফেলেছে। এটি অনেক দুঃখজনক। আমরা তাকে সবধরণের সহযোগিতা করব।
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিটের বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার
বলেন, বন্যহাতির পাল দিনে পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। আর সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। আমরা বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপর রয়েছি।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কাজি শফিউল ইসলাম বলেন,বন্যহাতির দল কৃষকের ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে বিনষ্ট কারার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পর পরই উপ-কৃষি কর্মকর্তাকে পরিদর্শন করতে পাঠিয়েছি। বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক, বিষয়টি বনবিভাগ বিষয়টি দেখে। আবদুল কাদের আমাদের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক। আমরা উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ওই সব কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদেরকে সরকারিভাবে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বনবিভাগে আবেদন করলে সরকারি ভাবে প্রণোদনার পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 



















