
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা জুড়ে রমজানকে সামনে রেখে কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
ক্রেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রশাসনের দৃশ্যমান নজরদারির অভাবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে,এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল, চিনি,পিয়াছ, ছোলা, খেজুর এবং সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায় শশা,লেবু, টমেটো,কাঁচামরিচ,গাজর, আলু ও বেগুনসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে হঠাৎ বেড়ে গেছে। কোনো নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা নেই, নেই তদারকির কার্যকর উপস্থিতি। একই পণ্য একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, “রমজান এলেই কিছু ব্যবসায়ী মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ায়, অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
”নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বলছেন, দৈনিক আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বাড়তি দামে বাজার করা এখন দুঃস্বপ্ন। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও চাপে পড়ে হিসাব কষে চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কম কিনছেন বা বিকল্প খুঁজছেন। ফলে রমজানের আগে স্বস্তির বদলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
ক্রেতা আমিন বলেন, পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বেড়েছে মুরগির দামও। গত দুইদিন আগে যে দামে পেঁয়াজ কিনেছি আজ তার থেকে ২৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজি কিনেছিলাম ৩৫ টাকা। আর আজ ৬০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
শাহজাহান নামের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, চালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের শ্রমের দাম তো বাড়েনি।
এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ-এসব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তাদের জোর দাবি-রমজানের পবিত্রতা ও সাধারণ মানুষের কষ্টকে বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
অন্যথায় অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়বে, আর বাজার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা চরমভাবে নষ্ট হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় রাখতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেছি। রমজনকে সামনে রেখে সব ধরনের পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে হবে।আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং শুরু করব। বাজারের যেসব ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যেমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে,তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 




















