ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় খাস জায়গায় ভুক্তভোগীদের রুপনকৃত ফলজ বনজ গাছ উচ্ছেদের চেষ্ঠা

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা আবাসনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলীয় স্বত্বে মালিকানাধীন কয়েকটি পরিবারের জায়গায় রুপনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উচ্ছেদের চেষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য মোস্তাক আহমদ, ইলিয়াছ, ইদ্রিস, আমির হামজা, আরফাতসহ কয়েকজন মিলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরম্বা মাইজবিলা মৌজা বিএস ১নং দাগ খাস খতিয়ানের জায়গায় ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে গাছের চারা রুপন করে ভোগ দখলে স্থিত রয়েছে। কিছুদিন পুর্বে দুর্বৃত্তরা তাদের রুপনকৃত জায়গায় আগুনও লাগিয়ে দেয়, এতে তাদের গাছের চারা পুড়ে গেছে আগুন লেগে

মোম্তাক আহমদের স্ত্রী তাহেরা বেগম বলেন, জায়গাটি সরকারের এটা ঠিক আছে, তবে আমার স্বামী দীর্ঘকাল ধরে এ জায়গায় ভোগ দখল করে বাগান চাষাবাদ করে আসছে। পাহাড় সরকারি হলেও নাল জমি খতিয়ান ভুক্ত বলেও জানান।

ফয়েজুর রহমান বলেন, আমার পুর্ব পুরুষেরা এ জায়গায় চাষাবাদ করে আসছে, জমির খিলা অনুযায়ি সরকারি পাহাড় আমরা চারা রুপন করে আসছি।আমাদের দীর্ঘদিনের দখলে থাকা খাস জায়গা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কয়েকবার লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আমরা এটির সুষ্ঠু সমাধান চাই।

ভুক্তভোগী বদিউল আলম সওদাগর বলেন, সরকারি খাস জায়গায় পাহাড়ের নিচে নাল জমি রয়েছে আমাদের। অনেক দিন ধরে আমরা খাস জমিতে চারা রুপনসহ চাষ করে আসছি। বনবিভাগের লোকজন আমাদেরকে বাঁধা দিচ্ছে, বাঁধা দিলে তো উপজেলা প্রশাসন দিতে পারে। যেহেতু খাস খতিয়ান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, ভুক্তভোগীরা অনেক অসহায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে জায়গা গুলো ভোগ দখল করে আসছে। তাদেরকে বনবিভাগের লোকজন উচ্ছেদ করার চেষ্ঠা করছে। সরকারি খাস জায়গার মালিক উপজেলা প্রশাসন, কিন্তু বনবিভাগ এসে তাদের জায়গায় বাঁধা দিচ্ছে।

টংকাবর্তী বিট কর্মকর্তা নাঈম বলেন, এটা আমাদের গেজেটেড জায়গা। তবে,জায়গাটি খাস হয়ে আছে। পিএফ এর গেজেটেড ভুক্ত জায়গায় আমরা সামাজিক বনায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওখানে যাদের কে উচ্ছেদ করা হবে তারা সবাই উপকার ভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এখনো পর্যন্ত আমরা কাউকে উচ্ছেদ করিনি। বনের জায়গা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাছান বলেন, তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।

ট্যাগ:
রিপোর্টার এর তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

লোহাগাড়ায় খাস জায়গায় ভুক্তভোগীদের রুপনকৃত ফলজ বনজ গাছ উচ্ছেদের চেষ্ঠা

প্রকাশিত: ০৫:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা আবাসনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলীয় স্বত্বে মালিকানাধীন কয়েকটি পরিবারের জায়গায় রুপনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উচ্ছেদের চেষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য মোস্তাক আহমদ, ইলিয়াছ, ইদ্রিস, আমির হামজা, আরফাতসহ কয়েকজন মিলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরম্বা মাইজবিলা মৌজা বিএস ১নং দাগ খাস খতিয়ানের জায়গায় ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে গাছের চারা রুপন করে ভোগ দখলে স্থিত রয়েছে। কিছুদিন পুর্বে দুর্বৃত্তরা তাদের রুপনকৃত জায়গায় আগুনও লাগিয়ে দেয়, এতে তাদের গাছের চারা পুড়ে গেছে আগুন লেগে

মোম্তাক আহমদের স্ত্রী তাহেরা বেগম বলেন, জায়গাটি সরকারের এটা ঠিক আছে, তবে আমার স্বামী দীর্ঘকাল ধরে এ জায়গায় ভোগ দখল করে বাগান চাষাবাদ করে আসছে। পাহাড় সরকারি হলেও নাল জমি খতিয়ান ভুক্ত বলেও জানান।

ফয়েজুর রহমান বলেন, আমার পুর্ব পুরুষেরা এ জায়গায় চাষাবাদ করে আসছে, জমির খিলা অনুযায়ি সরকারি পাহাড় আমরা চারা রুপন করে আসছি।আমাদের দীর্ঘদিনের দখলে থাকা খাস জায়গা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কয়েকবার লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আমরা এটির সুষ্ঠু সমাধান চাই।

ভুক্তভোগী বদিউল আলম সওদাগর বলেন, সরকারি খাস জায়গায় পাহাড়ের নিচে নাল জমি রয়েছে আমাদের। অনেক দিন ধরে আমরা খাস জমিতে চারা রুপনসহ চাষ করে আসছি। বনবিভাগের লোকজন আমাদেরকে বাঁধা দিচ্ছে, বাঁধা দিলে তো উপজেলা প্রশাসন দিতে পারে। যেহেতু খাস খতিয়ান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, ভুক্তভোগীরা অনেক অসহায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে জায়গা গুলো ভোগ দখল করে আসছে। তাদেরকে বনবিভাগের লোকজন উচ্ছেদ করার চেষ্ঠা করছে। সরকারি খাস জায়গার মালিক উপজেলা প্রশাসন, কিন্তু বনবিভাগ এসে তাদের জায়গায় বাঁধা দিচ্ছে।

টংকাবর্তী বিট কর্মকর্তা নাঈম বলেন, এটা আমাদের গেজেটেড জায়গা। তবে,জায়গাটি খাস হয়ে আছে। পিএফ এর গেজেটেড ভুক্ত জায়গায় আমরা সামাজিক বনায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওখানে যাদের কে উচ্ছেদ করা হবে তারা সবাই উপকার ভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এখনো পর্যন্ত আমরা কাউকে উচ্ছেদ করিনি। বনের জায়গা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাছান বলেন, তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।