
রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাকর আলি মহাজন পাড়ার পশ্চিম পার্শ্বে তইরগ্যা বর বাড়ির তরিতুল্লাহর টিলা নামে পরিচিত টিলাটি রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একদল মাটিখেকু অবাধে টিলা কেটে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। এতে করে এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজানের বাকর আলি মহাজন পাড়ার পশ্চিম পার্শ্বে তইরগ্যা বর বাড়ির তরিতুল্লাহর টিলা নামে টিলাটি বেশ পরিচিত। টিলাটির বেশি অংশ কেটে ফেলার পার্শ্বে রয়েছে বাড়ি। এ বাড়ির মালিক টিলা কাটার সময় ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। পবিত্র মাহে রমজান মাসে এ টিলার বেশ অংশ কেটে সাবাড় করে নিয়ে গেছে মাটি খেকোরা। তারা টিলার মাটিগুলো ইটভাটায় নিয়ে বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা কফিল উদ্দিনসহ আটজন এলাকার লোক বাদি হয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে এলাকার জামাল উদ্দিন নামে একজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
জানা যায়, মাহে রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর রাতে মানুষ মসজিদে ইবাদত করে। সেইসময় এলাকার কিছু মাটি খেকোরা প্রভাব কাটিয়ে রাতের আধারে টিলার মাটিগুলো স্কেভেটর দিয়ে কেটে ১০/১২টি ডাম্পার লাগিয়ে নিয়ে গেছে। দিনের বেলায় তেমন তৎপরতা দেখা না গেলেও রাত হলেই শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মাটিখেকুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
টিলার পার্শ্বে বাড়ির বাসিন্দা রিক্মা চালক মোঃ ইউনুচ বলেন, টিলার পার্শ্বে আমার বাড়ি হলেও মাটি খেকোদের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারিনি। এ টিলাটি বাহাদুর নামে এক লোক জামাল নামে একজন মাটি ব্যবসায়ীকে বিক্রি করছে। এখানে অর্ধেক খতিয়ান,আর অর্ধেক খাস জায়গা। টিলার বাকি অংশ কেটে ফেললে আমাদের তিন বসতঘর,বিলীন হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে এটির প্রতিকার চাই।
টিলার পার্শ্বে জমির মালিক আবুল হাসেম নামে এক ব্যক্তি বলেন, টিলা কাটার অংশে আমারও জায়গা রয়েছে। আমাদের জায়গার পার্শ্বে কিছু খাস জায়গাও রয়েছে। টিলা কেটেছে আমার জায়গা থেকে অথচ আমি কিছুই জানিনা। স্থানীয় বাহাদুর নামে এক ব্যক্তি জামাল উদ্দিনকে বিক্রি করেছে। রাতের আধারে টিলাটি কেটে সাবাড় করে ফেলেছে।টিলার মাটিগুলো ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি বাহাদুরের কাছ থেকে টিলাটি ১লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। আমি কোন অবৈধভাবে টিলাটি কাটিনি। আমার কিনে নেওয়া টিলা কেটেছি। টিলাটি টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার পরও বার বার প্রশাসনের কাছে হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি জরিমানাও দিয়েছি।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফুল ইসলাম বলেন, টিলা কাটা সম্পুর্ণ অন্যায়। টিলা কাটা বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। টিলা কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশ বাংলা ডট নেট ডেস্ক 
